
শেষ আপডেট: 9 November 2023 10:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় স্পষ্ট জানালেন কোনও বিচারপতির সমালোচনা কখনই আদালত অবমাননা বলে গণ্য হবে না। প্রযোজ্য হবে না আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাও।
একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, মর্যাদা রক্ষায় দায় আছে ব্যক্তি বিচারপতিরও। রায়, পর্যবেক্ষণ নিয়ে জনমনে আপত্তি থাকতেই পারে।
বিচারপতি হিসাবে বুধবার ২৩ বছর পূর্ণ করেছেন চন্দ্রচূড়। প্রধান বিচারপতি হিসাবেও বুধবার ছিল এক বছর পূর্তি। এই উপলক্ষে বিচার বিভাগে তাঁর অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি নিয়ে অনেক কথা বলেছেন প্রধান বিচারপতি।
ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে কারও বক্তব্য আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হতে পারে সে ব্যাপারে জনসাধারণের মধ্যে স্পষ্ট ধারণার অভাব আছে। সেই কারণে প্রধান বিচারপতির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক অতীতে আদালতের সমালোচনা বেড়ে গিয়েছে। বহু মানুষ সামাজিক মাধ্যমে বিচারপতি এবং বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি বিচারপতিকে নিশানা করা হচ্ছে।
আবার বিচারপতিকে দেবতা জ্ঞান করার প্রবণতাও বাড়ছে। বাংলায় শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলার শুনানি চলছে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে। তিনি বারে বারে রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন। আবার সমাজমাধ্যমে তাঁর সুখ্যাতির বন্যা বইছে।
সুপ্রিম কোর্টেরও অনেক রায় নিয়েও শাসক ও বিরোধী শিবির ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছে। অনেক সময় ব্যক্তি বিচারপতিকেও নিশানা করা হচ্ছে। বাদ থাকছে না সমাজমাধ্যম। সেখানে বিচারপতিদের বেলাগাম সমালোচনায় রাশ টানার কথা আলোচনায় এসেছে একাধিকবার।
প্রধান বিচারপতি বলেন, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিচারে বাধা দিলে বা আদালতের রায় মানতে অস্বীকার করলে তা অবমাননা বলে ধরা যেতে পারে। কিন্তু রায়ের বা বিচার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করলে বিচারপতিরা অবমাননার ধারায় রক্ষাকবচ পাবেন না। চন্দ্রচূড় বলেন, বিচারপতিদেরও তাঁদের কাজের মধ্য দিয়ে পদের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি জনস্বার্থ মামলা নিয়েও খানিক ভিন্ন কথা শুনিয়েছেন। সাম্প্রতিককালে একাধিক মামলায় বিচারপতিরা জনস্বার্থ মামলার অপব্যবহার নিয়ে সরব হয়েছেন। সেই তালিকায় প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ও আছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি কিন্তু জনস্বার্থ মামলার প্রয়োজনীয়তার দিকটিই তুলে ধরেন। বলেন, এই ধরনের মামলার মাধ্যমে সমাজের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালত এবং প্রশাসনের নজরে আসছে। প্রসঙ্গত, দিল্লি-সহ গোটা দেশে দূষণ আটকানো এবং শব্দবাজির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঐতিহাসিক রায়গুলি হয়েছে জনস্বার্থে দায়ের হওয়া মামলায়। প্রতি সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টগুলিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে নির্দিষ্ট সময় জনস্বার্থ মামলার জন্য বরাদ্দ থাকে।