
শেষ আপডেট: 26 February 2024 19:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার কেরলের পাঁচটি আসনের জন্য দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল সিপিআই। রাজ্যের কুড়িটি আসনের বাকি পনেরোটিতে সিপিএম এবং বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের অন্য শরিক দলগুলি লড়াই করবে।
সিপিআইয়ের পাঁচ প্রার্থীর অন্যতম অ্যানি রাজা। সিপিআইয়ের জাতীয় পরিষদের সদস্য এই প্রবীণ নেত্রী লড়াই করবেন ওয়ানাডে। সেখানকার সাংসদ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ২০১৯-এর ভোটে রাহুল এই আসন থেকে রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতে লোকসভায় গিয়েছিলেন। এবারও তাঁর ওয়ানাডে প্রার্থী হওয়ার কথা। ফলে অ্যানির সঙ্গে সরাসরি লড়াই হবে কংগ্রেস নেতার। দীর্ঘ সময় ওয়ানাড ছিল কেরলের বাম দুর্গগুলির অন্যতম। লোকসভা এবং বিধানসভা বিপুল ভোট জিততেন সিপিআই প্রার্থীরা। বিগত কয়েক বছর যাবত আসনটি কংগ্রেসের দখলে।
সিপিআই এবার জোরদার লড়াইয়ের বার্তা দিতে ওয়ানাডে অ্যানিকে প্রার্থী করল। তিনি দলের মহিলা সংগঠন ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান উইমেনের সভাপতি এবং সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজার স্ত্রী। স্বামীর মতো তিনিও দলের সর্বক্ষণের কর্মী।
দলের যুব শাখায় কাজ করার সময় দু’জনের আলাপ। অ্যানি কলেজ জীবনে চার্চে যোগ দিয়ে সেবা কাজে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। রাজার সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। তখন থেকে দলে তারা ‘রাজা ও রানি’ নামে পরিচিত।
কেরলের রাজনীতিতে ‘অগ্নিকন্যা’ হিসাবে খ্যাত অ্যানির নেতৃত্বে সিপিআই বহু সফল আন্দোলন সংগঠিত করে। অন্যদিকে, রাজা তামিলনাড়ুর মানুষ। পারিবারিক সূত্রে দু’জনই দলিত এবং ক্রিস্টান। যদিও ব্যক্তিগত জীবনে ধর্ম মানেন না।
দুই পরিবার তাঁদের বিয়েতে সম্মতি দিলেও বেঁকে বসেছিল সিপিআইয়ের কেরল রাজ্য নেতৃত্ব। অ্যানির মতো পার্টি অন্তপ্রান্ত কমরেডকে হাতছাড়া করতে চাইছিলেন না তাঁরা। কারণ, বিয়ের সূত্রে তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে শ্বশুর বাড়ি চলে যান অ্যানি। দিন কয়েক আগে এক সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রসঙ্গক্রমে অ্যানি বলেছেন, ‘একটি গোলাপ বিনিময় করে পার্টি অফিসে আমাদের বিয়ে হয়েছিল। উপস্থিত কমরেডদের লেবুর সরবত খাওয়ানোর ব্যবস্থা পার্টিই করেছিল।’