
শেষ আপডেট: 5 December 2023 16:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে হারের পর রাহুল গান্ধীর কেরলের ওয়ানাড আসন থেকে লড়াই নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। তিন রাজ্যে হারের পর রাহুল পরাজয় মেনে নিয়ে বলেছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে নীতির লড়াই চলবে।
রাহুলের ওই কথার সূত্র ধরে মঙ্গলবার কেরলের সিপিআই মন্ত্রী কে রাজন বলেন, রাহুলের উচিত উত্তর ভারতের কোনও আসনে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করা। পারলে আমেথিতেই বিজেপির মোকাবিলা করা।
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল তাঁর পুরনো কেন্দ্র আমেথির পাশাপাশি কেরলের ওয়ানাড আসন থেকেও প্রার্থী হন। আমেথিতে বিজেপির নেত্রী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হেরে যান তিনি। অন্যদিকে, বিপুল ভোটে জিতে ফের সংসদে যান কেরল থেকে।
রাহুলের ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাম মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। ওয়ানাড আসনে লড়াই করে কেরলের সিপিএম নেতৃত্বাধীন লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের শরিক সিপিআই।
মঙ্গলবার সিপিআইয়ের প্রবীণ নেতা ও মন্ত্রী বলেন, কংগ্রেসের এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ে দলকে শক্তিশালী করা। রাহুল সত্যিই বিজেপিকে মোকাবিলা করতে চাইলে ঝুঁকি নিয়ে হলেও উত্তর ভারত থেকে লড়াই করা উচিত। কারণ, কেরলে বিজেপির কোনও অস্তিত্ব নেই।
সদ্য রাজস্থান, ছত্তীসগড় ও মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়েছে। বিজেপি তিন রাজ্য জিতলেও পদ্ম শিবির এখনও কংগ্রেসকে সরাসরি তীব্র আক্রমণের পথে হাঁটেনি। হাত শিবিরকে বরং বিপাকে ফেলেছে ইন্ডিয়া জোটের শরিকেরা। কংগ্রেসের বিজেপি বিরোধিতার ইচ্ছা এবং শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে শরিক দলগুলি।
রবিবার ফল প্রকাশের দিনই কংগ্রেসকে সতর্ক করে বিবৃতি দিয়েছিলেন দুই কমিউনিস্ট পার্টি সিপিএম ও সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে সীতারাম ইয়েচুরি এবং ডি রাজা। সোমবার কংগ্রেসের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবেরা। বস্তুত এই নেতা নেত্রীরা সময় দিতে পারছেন না বলে ইন্ডিয়া জোটের ৬ তারিখের নির্ধারিত বৈঠক পিছিয়ে ১৮ ডিসেম্বর করা হয়েছে। এবার জোটের বার্তা জোরদার করতে রাহুলের কেরলের ওয়ানাড থেকে প্রার্থী না হওয়ার দাবি তুলে দিল শরিক সিপিআই।