.webp)
শেষ আপডেট: 18 October 2023 14:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। হাসিনা পদত্যাগ না করলে বিএনপি ভোটে অংশ নেবে না, ঘোষণা করেছে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পার্টি। অন্যদিকে, শাসক দল আওয়ামী লিগ সেই দাবি খারিজ করে দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বেই অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।
বিরোধী ও শাসক দলের রাজনৈতিক বিবাদ এবার আদালতে গড়াল এক বিচিত্র মামলা ঘিরে। বাংলাদেশ হাইকোর্টে এক ব্যক্তি মামলা দায়ের করে দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা যাতে কোনও অবস্থাতেই ভোটের ফল প্রকাশের আগে পদত্যাগ না করেন আদালত সেই মর্মে নির্দেশ দিক। রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং বিচার বিভাগের সঙ্গে যুক্ত লোকজন মামলাটিকে ‘আজব’ বললেও হাইকোর্টের দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সেটি গ্রহণ করেছে। এক দফা শুনানিও হয়েছে।
নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কী করবেন না, তা সম্পূর্ণভাবে সরকার ও শাসক দলের বিচার্য। সেখানে আদালতের কিছু করার নেই। বাংলাদেশের সংবিধানে একটা সময় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধান ছিল। সেই বিধান অনুযায়ী ক্ষমতাসীন সরকার পদত্যাগ করলে সর্বদলীয় জাতীয় সরকার গঠন করা হত। কিন্তু আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল হয়ে গিয়েছে। আওয়ামী লিগ জানিয়ে দিয়েছে, শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। তবে নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর মন্ত্রিসভা ছোট করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বেছে নেবেন কতজনকে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় রাখবেন।
মামলাকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোজাম্মেল হকের জনস্বার্থে করা মামলায় বলা হয়েছে, তিনি আশঙ্কা করছেন, দেশি ও বিদেশি শক্তি নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করতে পারে। আর তা করা হলে দেশের উন্নয়ন ব্যর্থ হবে। তাই আদালতের রক্ষা কবচ দরকার, যাতে শেখ হাসিনা চাপের মুখে সরে না যান। মামলায় প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য-সচিব এবং আইন সচিবসহ আটজন পদাধিকারীকে যুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ হাইকোর্ট প্রাথমিক শুনানির পর বলেছে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু হবে। ঘটনাচক্রে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার কথা। প্রাথমিক শুনানিতে সরকারের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মামলাটি খারিজের আর্জি জানালেও আদালত তাতে কর্ণপাত করেনি। মামলাকারী শাসক দলের ঘনিষ্ঠ এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলেও খবর।
স্বভাবতই সব মহলে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে মামলার বিষয় এবং আদালত সেটি শুনতে রাজি হওয়ায়। জোর চর্চা শুরু হয়েছে, আদালতের কি সত্যিই এই ব্যাপারে কোনও নির্দেশ দেওয়ার এক্তিয়ার রয়েছে। হাইকোর্টের দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়টি স্পষ্ট না করেই মামলাটি গ্রহণ করায় জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। স্বভাবতই রাজনৈতিক বিবাদের মধ্যে সংবাদমাধ্যমেও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে বিচিত্র মামলাটি।