
শেষ আপডেট: 8 November 2023 11:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অশালীন মন্তব্য এবং মহিলাদের অসম্মান করার অভিযোগ উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে তুমুল বিবাদ শুরু হয়েছে। বিতর্কে জড়িয়েছে জাতীয় মহিলা কমিশন। মহিলাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা এই স্বশাসিত সরকারি সংস্থা সরাসরি রাজনীতি টেনে এনে নীতীশকে ক্ষমা চাইতে বলেছে। কমিশনকে পাল্টা তোপ দেগেছেন শিবসেনার নেত্রী প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদী।
মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিহার বিজেপি। সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য তুলে ধরে সমালোচনায় সরব হয়েছে পদ্ম শিবির। রাজনীতির বৃত্তের বাইরের লোকেরাও নীতীশের সমালোচনা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, একজন প্রবীণ রাজনীতিকের খেয়াল রাখা উচিত ছিল কোন কথা কীভাবে বলতে হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিহার বিধানসভায় জাত গণনার রিপোর্ট নিয়ে বিতর্কে নীতীশ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গ তোলেন। বলেন, এই ব্যাপার বিহারের ভাল অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু আরও অগ্রগতি দরকার। এরপরই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে একতরফা মহিলাদের উপর দায় চাপিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, মহিলাদের মধ্যে শিক্ষার হার আরও বাড়াতে হবে। আর শিক্ষিত মহিলাদের উচিত স্বামীকে বলা যে যৌন মিলনের সময় তারা যেন বীর্য বাইরে ফেলেন। যাতে অনাকাঙ্খিত সন্তান না আসে।
নীতীশের এই বক্তব্যকে অশালীন বলে প্রথমে দেগে দেয় বিজেপি। বিরোধী দলের বক্তব্য, এমন কদর্য্য কথা কেউ কখনও বিধানসভায় বলেননি। পাল্টা জবাব দেয় শাসক জোটও। নীতীশ ও লালুপ্রসাদের দল যথাক্রমে জেডিইউ এবং আরজেডি বলে, মুখ্যমন্ত্রী আসলে যৌন শিক্ষার কথা বলেছেন। নীতীশে পক্ষ নিয়ে তাঁর কথার ব্যাখ্যা দিতে উঠে দাঁড়ান আরজেডি নেতা তথা বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব।
বেশি রাতে নীতীশের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করে বিবৃতি দেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন রেখা শর্মা। এই বিজেপি নেত্রী তথা কমিশনের চেয়ারপারসন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলের কয়েকজন মহিলা নেত্রীকেও খোঁচা দেন নীতীশের বিরুদ্ধে মুখ না খোলায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদীরা কেন নীতীশের নিন্দা করে বিবৃতি দিচ্ছেন না। বুধবার সকালে প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদী পাল্টা বলেন, কেউ মহিলাদের অসম্মান করলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। কিন্তু যখনই আমরা মহিলাদের স্বার্থে সরব হয়েছি, আপনি চুপ থেকেছেন। মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসনের চেয়ারটি দখলে রাখতে আপনি রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নেন।