
আতিশী
শেষ আপডেট: 12 April 2024 18:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির রাজ্য সরকারকে বরখাস্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে শুক্রবার অভিযোগ করেছেন মন্ত্রী আতিশী। আম আদমি পার্টির প্রথমসারির এই নেত্রী শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে আরও বলেন, বিগত কয়েক মাস ধরে নানা ঘটনায় এই ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। এখন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া খবরে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, মদ দুর্নীতির মামলায় মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল গ্রেফতার হওয়ার পর বিজেপি তাঁর পদত্যাগ দাবি করে। কিন্তু কেন্দ্রের শাসক দল রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তোলেনি। তবে দিল্লির উপ-রাজ্যপাল বিকে সাক্সেনা সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দিনের পর দিন জেল থেকে সরকার চলতে পারে না।
মন্ত্রী আতিশী শুক্রবার উপ-রাজ্যপালকেও নিশানা করেছেন। আপ নেত্রীর বক্তব্য, দিল্লি সরকারের অধীনে কর্মরত অফিসারদের ট্রান্সফার, পোস্টিংয়ের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের হাতে নেওয়ার পর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কোনও আধিকারিক নেই। ফলে সরকারি কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এটাও কেন্দ্রের চক্রান্তের একটি অংশ।
কেজরিওয়াল জেল থেকে সরকার চালাবেন বলে তিনি গ্রেফতার হওয়ার পরই ঘোষণা করে আম আদমি পার্টি। আপ সরকারিভাবে কেজরিওয়াল পত্নীকে মেসেঞ্জার বা মুখ্যমন্ত্রীর বার্তাবাহক ঘোষণা করেছে। আর পাঁচজন বন্দির মতো মুখ্যমন্ত্রীও সপ্তাহে দু’দিন পাঁচ মিনিটের জন্য পরিবারের সঙ্গে ফোনে অথবা ভিডিও কলে কথা বলতে পারেন। কেজরিওয়ালের স্ত্রী সুনীতা স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর মাধ্যমেই দলকে নানা বার্তা দিচ্ছেন আপ সুপ্রিমো। বিজেপি প্রশ্ন তুলেছে, কেজরিওয়াল তাঁর প্রশাসনকে কীভাবে নির্দেশ, পরামর্শ দিচ্ছেন? সুনীতা তো সরকারের কেউ নন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী চলতি সপ্তাহের গোড়ায় দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে আর্জি জানিয়েছিলেন তাঁকে প্রতিদিন আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হোক। আদালতে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে বলা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে ২২-২৩টি মামলা চলছে। তাই আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা জরুরি। সেই আর্জি জেল ম্যানুয়ালের পরিপন্থী বলে আদালতে আপত্তি তোলে ইডি। আদালত মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি খারিজ করে দেয়।
কেজরিওয়ালকে ফের আদালতে পেশ করা হবে ১৬ এপ্রিল। তখন তিনি নতুন করে জামিনের আর্জি পেশ করতে পারেন। সেই আবেদন মঞ্জুর না হলে কতদিন তিনি জেল থেকে সরকার চালাতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় আছে আপের অন্দরেও।
যদিও প্রকাশ্যে দলের নেতারা বলছেন, ৪ জুন লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণ বিধি বলবৎ থাকবে। এই সময় সরকার নীতিগত কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। ফলে ততদিন পর্যন্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক করার প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতেও মুখ্যমন্ত্রীর লিখিত অনুমতি প্রয়োজন।
ওয়াকিবহালমহল মনে করছে, মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতির কারণে সরকারি কাজে বিঘ্ন ঘটা শুরু হলে তখন পদক্ষেপ করতে পারে কেন্দ্র। ততদিন পর্যন্ত উপ রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করবেন না, মনে করছে প্রশাসনিক মহল।