
রাহুল গান্ধী, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিস
শেষ আপডেট: 8 November 2024 11:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পরাজিত কমলা হ্যারিসকে শুক্রবার চিঠি লিখলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল দু’জনকেই লিখেছেন, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে গণতন্ত্রের প্রতি অভিন্ন অবস্থান, অঙ্গীকার। ট্রাম্পকে লিখেছেন, আমি আশাকরি আপনার হাত ধরে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আরও উন্নত হবে। তা দু-দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে। অন্যদিকে, কমলাকে লেখা চিঠিতে বিরোধী দলনেতা বলেছেন, গত পাঁচ বছরে নানা বৈশ্বিক ইস্যুতে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে কাজ করেছে। আমি আশা করি গণতন্ত্রের প্রতি অভিন্ন আস্থাই দু-দেশের সম্পর্ক আরও উন্নতির পাথেয় হতে পারে।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, বিজয়ী ট্রাম্প ও পরাজিত কমলাকে গণতন্ত্রকে সম্পর্কের ভিত্তি করার কথা বলে রাহুল আসলে এই ই্স্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপর চাপ বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন। বিদায়ী বাইডেন প্রশাসন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যুতে বারে বারে মোদী সরকারকে বিদ্ধ করেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে কমলা সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে এই দুই বিষয়ে আস্থাশীল থাকার কথা বলেছিলেন। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী বারে বারে ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভারতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিপন্নতার কথা বলেছেন।
এই দুই ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দ্বিতীয় ইনিংসে কী ভূমিকা নেবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রথম দফায় এই ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদীর সরকারে বিপাকে ফেলেনি মার্কিন প্রশাসন। মনে করা হচ্ছে, রাহুল তাই গণতন্ত্রকে সম্পর্কের ভিত্তি করার কথা ট্রাম্পকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে ট্রাম্পের জয়কে নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি সরকারের জন্য স্বস্তিদায়ক বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। ভোটের প্রচারেও ট্রাম্প একাধিকবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর ভাল বন্ধু বলে উল্লেখ করেছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের আগেই ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদীও ঘনিষ্ঠতার বার্তা দিয়েছেন।
তবে কূটনৈতিক মহল মনে করছে, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পদক্ষেপ ভারতের বিপক্ষে যেতে পারে। দ্বিতীয় দফায় তিনি তাঁর ‘আমেরিকা আগে’ নীতি আরও জোরালোভাবে বলবৎ করবেন বলে সব মহলই মনে করছে। এই নীতি কার্যকর করা হলে বিদেশি পণ্যের উপর চড়া হারে আমদানি শুল্ক বসাতে পারেন ট্রাম্প, যা তিনি প্রথম দফাতে করেছিলেন। তাতে মার খেয়েছিল ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য।
শুধু তাই নয়, ট্রাম্প প্রশাসন তখন মার্কিন পণ্যের উপর ভারতের আমদানি শুল্ক কমাতে চাপ সৃষ্টি করে। ফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় ইনিংস মোদী তথা ভারতের জন্য দুশ্চিন্তার কারণও হতে পারে। রাহুল গান্ধী বাকি সব ইস্যু পাশ কাটিয়ে ট্রাম্পকে পরোক্ষে ভারতে গণতন্ত্রের চলতি অবস্থা বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, নরেন্দ্র মোদীর সময়ে ভারতে যা বিপন্ন বলে তিনি বারে বারে অভিযোগ করে আসছেন।