
শেষ আপডেট: 21 January 2024 16:47
সোমবার সকাল সকাল নতুন রাম মন্দির চত্বরে পৌছে যাবেন নির্মল কোঠারি। অযোধ্যার এই প্রবীণ বাসিন্দা হলেন সেই ব্যক্তি যিনি কংগ্রেসের চতুর্থজন যিনি রাম মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগদানের আমন্ত্রণ পেয়েছেন।
আমন্ত্রণ পেলেও ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছে না কংগ্রেস-সহ বেশিরভাগ বিরোধী দল। কংগ্রেসের অপর তিন আমন্ত্রিত দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, প্রাক্তন সভাপতি সনিয়া গান্ধী এবং দলের লোকসভার নেতা অধীর চৌধুরীরা সোমবার অযোধ্যার অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না। কংগ্রেসের বক্তব্য, অযোধ্যায় সোমবারের অনুষ্ঠান বিজেপি-আরএসএসের কর্মসূচি।
অযোধ্যার কংগ্রেস নেতা নির্মল কোঠারি অবশ্য মনে করেন, রাম সকলের আরাধ্য দেবতা। ভারতবাসীর আবেগ জড়িয়ে শ্রীরামচন্দ্রের। সেই দেবতার মন্দির উদ্বোধন এবং মূর্তির প্রাণ প্রতিষ্ঠার মতো অনুষ্ঠান এড়িয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
আসলে রাম মন্দির উদ্বোধন ঘিরে অযোধ্যায় যে আবহ তৈরি হয়েছে, তাতে দলের অবস্থান আঁকড়ে থেকে রাজনীতি করা কঠিন। অনেকেই মনে করছেন, সেই কারণেই অযোধ্যার আর এক বাসিন্দা জয়শঙ্কর পাণ্ডের মন খারাপ সোমবারের অনুষ্ঠানে ডাক না পাওয়ায়। হিন্দুত্বের বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে অনেক সম্ভাবনার কথা। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অযোধ্যা তথা ফৈজাবাদ আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন এমন কথা অনেক দিনই শোনা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে বলিউডের এক নায়িকার নামও, যিনি হিন্দুত্ববাদী শিবির, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কিছু সদস্যের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফ্যান বলে পরিচিত।
সেই অযোধ্যায় রামের মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হাজির থাকার আমন্ত্রণ না পেয়ে ব্যথিত সমাজবাদী নেতা। জয়শঙ্করের কথায়, ‘আমি জানি না, কেন আমাকে আমন্ত্রণ করা হল না। এমন অনুষ্ঠানে ডাক না পেলে মন খারাপ তো হবেই।’
অযোধ্যার বাসিন্দা নির্মল কোঠারি উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি। মকর সংক্রান্তির দিন বর্তমান সভাপতি অজয় রাই-সহ কংগ্রেসের প্রথমসারির নেতারা অযোধ্যায় এসে সরযূতে স্নান করে অস্থায়ী মন্দিরে রামলালাকে পুজো দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু মন্দির উদ্বোধনে বর্তমান রাজ্য সভাপতি রাই ডাক পাননি। পেয়েছেন অযোধ্যার বাসিন্দা রাজ্য কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি।
খাড়্গে, সনিয়ারা অযোধ্যায় আসছেন না জেনেও নির্মল কোটারি মন্দির উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে ফেসবুকে লম্বা পোস্ট দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, সোমবারের অনুষ্ঠানের সঙ্গে গোটা ভারতের ভাবাবেগ জড়িত।
কোঠারির মতোই জয়শঙ্কর পাণ্ডেও প্রত্যাশা করেছিলেন তাঁর কাছে আমন্ত্রণপত্র আসবে। কিন্তু সমাজবাদী পার্টির রাজ্য মহাসচিব হওয়া সত্ত্বেও ডান পাননি তিনি। তাঁর আক্ষেপ, ‘আমি অযোধ্যার প্রাক্তন বিধায়ক। অযোধ্যা থেকে একমাত্র আমিই এখনও পর্যন্ত রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছি। অথচ, ট্রাস্ট আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রয়োজন মনে করল না।’
বিশ্বহিন্দু পরিষদ সূত্রের খবর, ১৯৯০-এ অযোধ্যায় করসেবকদের ভূমি পুজো আটকাতে জয়শঙ্করের ভূমিকার কথা বিবেচনায় রেখে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। রাজ্যে তখন সমাজবাদী পার্টির সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদব। সরকারের নির্দেশে পুলিশ সরযূ অপর প্রান্তে কর সেবকদের আটক দিয়েছিল। অযোধ্যায় প্রবেশ আটকাতে পুলিশ গুলি চালালে নিহত হন বহু করসেবক। সেই সময় বাবরি মসজিদ রক্ষায় দলীয় সরকারের পাশে থাকায় হিন্দুত্ববাদী শিবিরের অপছন্দের মানুষ জয়শঙ্কর।
অবশ্য ডাক পেয়েও যাচ্ছেন না মুলায়ম পুত্র তথা সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। তাঁর কথায়, ২২ তারিখেই যেতে হবে কোথায় লেখা আছে! যখন মন চাইবে রামলালা দর্শনে যাব। জয়শঙ্কর জানান, ‘কিছুদিনের মধ্যেই তাঁদের নেতা অখিলেশ সপরিবারে অযোধ্যায় আসবেন। তখন তিনিও তাঁদের সঙ্গী হবেন।’