
শেষ আপডেট: 16 December 2023 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, লোকসভা ভোটের আগে তিনি আরও একটি ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রা করবেন। আগের বার কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত যাত্রা করেছিলেন। এবার করবেন মুম্বই থেকে মেঘালয় পর্যন্ত। কিন্তু লোকসভা ভোটের আগে আর সময় নেই। সম্ভবত সেই যাত্রা আর হবে না। তবে ভারত জোড়ের মতই এবার অভিনব পদক্ষেপ করতে চাইছে সাবেক জাতীয় দল। তা হল, দেশের জন্য দাও (‘Donate for Desh’)। যার নেপথ্যে অবশ্য কংগ্রেসের অর্থকষ্টটাও এতটা বড় কারণ।
প্রায় দশ বছর কেন্দ্রে ক্ষমতায় নেই কংগ্রেস। কমতে কমতে এখন মাত্র তিনটি রাজ্যে শাসন করছে তারা। এই পরিস্থিতিতে বড় আকারে অর্থ সংগ্রহে নামছে কংগ্রেস। তবে মোড় রাখছে ভারত জোড়ারই। সারা দেশে ক্রাউড ফান্ডিং বা গণ-সংগ্রহ অভিযানে নামার ব্যাপার শনিবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন কংগ্রেসের কোষাধ্যক্ষ অজয় মাকেন।
আগামী ২৮ ডিসেম্বর ১৩৮ তম বর্ষপূর্তি কংগ্রেসের। সেই কারণে ন্যূনতম চাঁদা ধার্য করা হয়েছে ১৩৮ টাকা। প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিগুলিকে বলা হয়েছে, বেশি পরিমাণ চাঁদার জন্য সম্পন্ন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। সামনেই লোকসভা ভোট। ভোটের খরচ জোগাতে বিপুল টাকা দরকার। কংগ্রেসের বক্তব্য, ইলেকটোরাল বন্ড চালুর পর থেকেই দলের রোজগার কমতে শুরু করেছে। বন্ড বাবদ অর্থের অর্ধেকের বেশি টাকা পাচ্ছে বিজেপি।
গত বছর এমনকী তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে কংগ্রেসের আয় কম ছিল। তৃণমূল ক্রাউন্ড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে তুলেছিল ৩২৭ কোটি টাকা। আর কংগ্রেস ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে ২৩৬ কোটি টাকা চাঁদা পেয়েছিল। তুলনায় বিজেপি বন্ডের মাধ্যমে পেয়েছিল ১০৩৩ কোটি টাকা।
কংগ্রেসের এই উদ্যোগকে মহাত্মা গান্ধীর তিলক স্বরাজ তহবিলের সঙ্গে তুলনা করছে কংগ্রেস। ১৯২১-এ বাল গঙ্গাধর তিলকের প্রথম মৃত্যবার্ষিকীতে মহাত্মা গান্ধী এক কোটি টাকা সংগ্রহের অভিযান শুরু করেছিলেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের খরচ জোগাতে ওই অর্থ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়।
দলীয় সূত্রের খবর, কেরল কংগ্রেস বছর দুই আগে এই ভাবে মোটা টাকা সংগ্রহ করে। কংগ্রেস সমর্থক নন এমন মানুষও তখন হাত শিবিরকে চাঁদা দিয়েছেন। বাড়ি বাড়ি অর্থ সংগ্রহের ফলে জনসংযোগও হয়। আর গোটা দেশ জুড়ে এই জনসংযোগ চালাতে পারলে তা প্রকৃত অর্থেই ভারত জোড়ো হয়ে উঠতে পারে।