
রাহুল গান্ধী। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 30 August 2024 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত লোকসভা ভোটে বিজেপিকে পরাস্ত করতে উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলি, আমেঠি এবং কেরলের ওয়ানাড় লোকসভা কেন্দ্রের জন্য কোটি কোটি টাকা ঢেলেছিল কংগ্রেস। কারণ, এই তিনটি কেন্দ্রেই বিজেপিকে হারানো ছিল দেশের প্রাচীনতম দলের সম্মানরক্ষার লড়াই। তাই দুহাতে খরচ করা হয়েছিল এই তিনটি কেন্দ্রকে রক্ষা করা কিংবা পুনর্দখল করতে।
কংগ্রেসের অলিখিত সর্বেসর্বা রাহুল গান্ধীকে তাঁর পুরনো কেন্দ্র ওয়ানাড় থেকে প্রার্থী করা চূড়ান্তই ছিল। শেষমেশ ইজ্জত রক্ষার লড়াইয়ে নামতে গিয়ে কংগ্রেস দুর্গ রায়বরেলিতেও রাহুলকে প্রার্থী করার ঝুঁকি নেয় হাইকমান্ড। অন্যদিকে, বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির কাছে হেরে যাওয়া কেন্দ্র পুনরুদ্ধারে মরণবাঁচন ঝুঁকি না নিলেও কিশোরীলাল শর্মাকে দাঁড় করিয়েছিল কংগ্রেস। ওই কেন্দ্র হাতের তালুবন্দি করতে লাখ লাখ টাকা ঢালে দল।
ওয়ানাড় এবং রায়বরেলির জন্য রাহুলকে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য ৭০ লক্ষ টাকা করে। নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া তথ্যে এই হিসাব তুলে ধরেছে দল। তবে নির্বাচনে লড়াই করার জন্য কংগ্রেস সবথেকে বেশি অর্থ ঢেলেছিল হিমাচল প্রদেশের মান্ডি লোকসভা কেন্দ্রে। সেখানে হাত চিহ্নের প্রার্থী বিক্রমাদিত্য সিংকে দেওয়া হয়েছিল ৮৭ লক্ষ টাকা। যদিও বিক্রমাদিত্য বিজেপি প্রার্থী কঙ্গনা রনৌতের কাছে হেরে গিয়েছেন।
আরও যে নেতারা নির্বাচনে লড়তে দলের কাছ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা করে পেয়েছিলেন তাঁরা হলেন, কিশোরীলাল শর্মা। তিনি অবশ্য তৎকালীন সাংসদ স্মৃতি ইরানিকে হারিয়ে আমেঠি পুনর্দখল করে হাতি মেরে দেখিয়ে দিয়েছিলেন। প্রবীণ নেতা কেসি বেণুগোপাল, যিনি কেরলের আলাপ্পুঝা থেকে হাত চিহ্নে জেতেন। এবং তামিলাড়ুর বিরুধুনগর কেন্দ্রের প্রার্থী মানিকম ঠাকুর।
এছাড়াও ৭০ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন কর্নাটকের গুলবর্গার প্রার্থী রাধাকৃষ্ণ এবং পাঞ্জাবের আনন্দপুর সাহিব কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী বিজয়ইন্দ্র সিংলা। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা এবং দিগ্বিজয় সিং দুজনেই হেরে গেলেও তাঁদের জন্য দল খরচ করেছিলে যথাক্রমে ৪৬ লক্ষ ও ৫০ লক্ষ টাকা।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের ২০২২ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত সুপারিশ অনুযায়ী প্রার্থীপ্রতি খরচের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়। আগে যেটা ছিল ৭০ লক্ষ টাকা, সেটা বেড়ে হয় ৯৫ লক্ষ। এটা শুধুমাত্র লোকসভা ভোটের জন্য। বিধানসভা ক্ষেত্রে আগে সর্বোচ্চ খরচের পরিমাণ ছিল ২৮ লক্ষ, বেড়ে হয় ৪০ লক্ষ টাকা। তবে সংশোধিত সর্বোচ্চ ব্যয়ের পরিমাণ বর্তমানে বড় রাজ্যের ক্ষেত্রে ৯০ লক্ষ এবং ক্ষুদ্র রাজ্যে ৭৫ লক্ষ টাকা।