
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 17 July 2024 21:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রের ন্যায় সংহিতা আইন ভাল করে খতিয়ে দেখে পর্যালোচনা করার জন্য নতুন রিভিউ কমিটি তৈরি করল রাজ্য সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে সাত সদস্যের এই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটির শীর্ষে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অসীম কুমার রায়।
প্রসঙ্গত, ১ জুলাই থেকে ফৌজদারি বা অপরাধ সংক্রান্ত বিচার ব্যবস্থায় চালু হয়েছে নয়া তিন আইনের শাসন। ভারতীয় দণ্ডবিধি বা আইপিসি’র বদলে ভারতীয় ন্যায়সংহিতা (বিএনএস), ফৌজদারি কার্যবিধি বা সিআরপিসি-র বদলে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) এবং এভিডেন্স অ্যাক্টের বদলে ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম (বিএসএ) চালু হয়েছে গোটা দেশে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় এ বিষয়ে তিনটি বিল পেশ করে দাবি করেন, 'ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ জমানার প্রভাব এবং দাসত্বের মানসিকতা দূর হবে।'
যদিও বিচারালয় এবং থানা-পুলিশের সিংহভাগের কাছে নয়া আইন স্পষ্ট নয়। কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের দুই পদস্থ আধিকারিকের কথায়, বাহিনীর লোকজনের কাছে নয়া আইন খায় না মাথায় জাতীয় সমস্যা। সবচেয়ে সমস্যায় থানায় কর্মরত পুলিশরা। একই মত আলিপুর ও শিয়ালদহ আদালতের দুই বিচারকের। তাঁদের বক্তব্য, এক দফা প্রশিক্ষণ হয়েছে বটে। তবে তা ছিল দায়সারা পদক্ষেপ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ জানিয়েছিলেন পুলিশ-আইনজীবী ও নিম্ন আদালতের বিচারকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কিন্তু জানুয়ারি মাস থেকে পুলিশ-প্রশাসন ভোট নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নয়া আইন নিয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাননি অনেকেই।
এখন কেন্দ্রের ন্যায় সংহিতা আইন রাজ্য নিজের প্রয়োজন মতো সংশোধন করতে পারে কিনা, তা খুঁটিয়ে দেখার জন্যই গঠিত হয়েছে নতুন কমিটি। সমস্ত দিক পর্যালোচনা করে তিন মাসের মধ্যেই রিপোর্ট দেবে তারা। কমিটিতে প্রাক্তন বিচারপতি ছাড়াও রয়েছেন আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য প্রমুখ।
এই রিভিউ কমিটি কী কারণে তৈরি হয়েছে, তাই নিয়ে আবার পাল্টা রিপোর্ট তলব করেছেন রাজ্যরাল সিভি আনন্দ বোস।
নতুন আইনে ৩৩টি অপরাধের ক্ষেত্রে জরিমানা ও কারাবাসের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ৬ মাসের সাজা বেড়ে হয়েছে ১ বা ২ বছর। ২ বছরের কারাবাসের মেয়াদ বৃদ্ধি করে করা হয়েছে ৩ বা ৫ বছর। বহু অপরাধে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীর আমৃত্যু কারাবাসের বিধান বলবৎ হয়েছে নয়া আইনে। ১৪ বছর মুক্তির আবেদন বিবেচনার সুযোগ ওই সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া ইউএপিএ-সহ দেশদ্রোহিতার অভিযোগের বিচারের কঠোর ধারাগুলি আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।
নয়া আইনে বাতিল হয়েছে পুলিশ হেফাজতে থাকা বন্দির প্রতি ৪৮ ঘণ্টা অন্তর বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিধান। নয়া আইনে বলা হয়েছে, চিকিৎসক মনে করলে তবেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যেতে পারে।
ইডির আইনে আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান নিয়ে বিতর্ক জারি আছে দেশে। ওই ধারা বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, নয়া আইনে পুলিশকেও একই ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
নয়া আইনে কঠোর করা হয়েছে মৃত্যুদণ্ডের বিধান। নয়া আইন বলবৎ হলে রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন এক বার নাকচ করে দেওয়ার পর আর আদালতে বিচার চাওয়া যাবে না।
বলা হয়েছে, কিছু অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশ সরাসরি এফআইআর দায়ের না করে প্রথমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করবে। তারপর পুলিশের মনে হলে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করতে পারে।