২০২০-র বিধানসভা ভোট পাঁচ দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার দফা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সেরে নিতে চায় কমিশন।

শেষ আপডেট: 4 October 2025 12:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ( Gyanesh Kumar) নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের খুলবেন এখন পাটনায়। শুক্রবার বিকালে তিন কমিশনার বিহারের রাজধানীতে পৌঁছেছেন। শনিবার সকালে তারা শহরের একটি পাঁচ তারা হোটেলে রাজ্যের ১২টি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন। দুপুরের পর রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক করার কথা।
ভোটমুখী রাজ্যে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সফর রুটিন বিষয়। তবে এই ধরনের সফরে ভোট পরিচালনা নিয়ে কমিশনের মনোভাব অনেকটাই স্পষ্ট হয়। ফুল বেঞ্চ দিল্লি ফিরে যাওয়ার পর বিহারের ভোটের নির্ঘণ্ট নিয়ে চূড়ান্ত পর্বের আলোচনা শুরু হবে। ২০২০-র বিধানসভা ভোট পাঁচ দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার দফা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সেরে নিতে চায় কমিশন।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এবার গত জুন মাস থেকে বিহারের বিধানসভা ভোট ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সদ্যই রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। তাতে ৪৭ লাখ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। অবশ্য প্রায় ২২ লাখের নাম নতুন করে যুক্ত হয়েছে। শাসক ও বিরোধী কোন পক্ষই এখনও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেনি।
সূত্রের খবর বিহারের ক্ষেত্রে কমিশনকে দুটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হচ্ছে। একটি হল দাবি দুস্কৃতিদের অনেকেই এখন জেলের বাইরে আছে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করতে পারে এইরকম অপরাধীদের চিহ্নিত করতে রাজ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
আগের নির্বাচন গুলিতে গোলমাল করার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ভোটের আগে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলার জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার এবং এবং মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কমিশনের একটি সূত্রের খবর জ্ঞানেশ কুমাররা বিহারের ভোটে নতুন এক সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চলেছেন। রাজ্যে অতীতের ভোটে কারচুপি, রিগিং, সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এবার ভোটের দিনগুলি গৃহবন্দি রাখা হবে। সে ক্ষেত্রে তাদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে। করোনা সময় থেকে কমিশন পোস্টাল ব্যালটের নয়া ব্যবস্থা চালু করেছে। কেউ গুরুতর অসুস্থতার কারণে বুথে যেতে না চাইলে কমিশনের লোকজন বাড়িতেই তাদের ভোটদানের ব্যবস্থা করে। আশি ঊর্ধ্ব ভোটারদেরও এই সুবিধা দিয়ে থাকে কমিশন। এবার কমিশনের ভাবনা হল ভোটে অতীতে গোলমাল করা ভোটারদেরও বাড়িতে গিয়ে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোটের দিন তারা বাড়ির বাইরে বেরোতে পারবেন না অথবা তাদেরকে স্থানীয় থানায় গিয়ে থাকতে হবে
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত দুই দশক হল বিহারের ভোট হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার মহড়া। বিহারে কমিশন যেসব পদক্ষেপগুলি করে তার পুনরাবৃত্তি দেখা গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে।। এমনকী অতীতে বিহারের তিনজন পদস্থ আমলাকে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে বিশেষ পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুজন ছিলেন বিহারের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে অতীতে নির্বাচনে গোলমাল সৃষ্টিকারী লোকজনদের ভোটের দিন গৃহবন্দি বা থানায় আটকে রাখার সিদ্ধান্ত বাংলাতেও কার্যকর করা হতে পারে
জ্ঞানেশ কুমারদের আরেকটি বিষয়ে নিয়ে ভাবতে হচ্ছে তা হল বুথে ভিড় বাড়ানো। পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় বিহারে ভোটদানের হার যথেষ্ট কম বলে কমিশন এবার সেখানে অনেক বেশি ভোটারকে বুথে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। মহিলা ভোটারদের বুথে নিয়ে আসতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে কাজে লাগাতে চাইছে কমিশন। কমিশনের প্রতিনিধিরা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বৈঠকে গিয়ে ভোটদানের বিষয়ে মহিলাদের উৎসাহিত করবেন। তবে বিগত দু'দর্শকে বিহারে ভোটদানের হার তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কমিশন এবার বিহারে ভোটদারের হার বাংলার সমান করতে চাইছে।