
শেষ আপডেট: 19 January 2024 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইআইটি জয়েন্ট এন্ট্রান্সের মতো সর্বভারতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য আজকাল ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে নানান কোচিং সেন্টার। যেখানে ভালো নম্বর পাইয়ে দেওয়ার মতো বিভ্রান্তিকর প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে অভিভাবকদের দিতে হয় মোটা টাকা। অজস্র প্রলোভনের হাতছানিতে সাড়া দিয়ে পড়ুয়ারা নাম লেখান নানা নামী-দামি কোচিং সেন্টারে। আর কোচিং ক্লাসগুলির এই সামগ্রিক ব্যবস্থাকে রাশ টানতেই নয়া নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র।
কোচিং ক্লাসে এবার কোনও পড়ুয়াকে ভর্তি করতে হলে তার নূন্যতম বয়স হতে হবে ১৬, এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক। আবার পড়ুয়া যেমন ১৬ বছরের আগে ভর্তি হতে পারবে না তেমনই শিক্ষকও নূন্যতম স্নাতক না হয়ে পড়ানোর সুযোগ পাবেন না। কোনও পড়ুয়ার থেকে অতিরিক্ত টাকা নিলে কিংবা অন্য কোনও অসৎ আচরণ করলে ওই কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষের এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। প্রয়োজনে বাতিল হতে পারে রেজিস্ট্রেশনও।
কোচিং সেন্টারগুলিকে বজায় রাখতে হবে নূন্যতম গুণতম মান যেখানে পড়ুয়ারা তাঁদের প্রয়োজনীয় সমস্ত পঠনপাঠনের জোগান পাবেন। থাকবে তাঁদের সুরক্ষার ব্যবস্থাও। পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
যে সমস্ত কোচিং ক্লাস ইতিমধ্যেই রেজিস্টার্ড রয়েছে, তাদের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও যোগ্যতা দেখিয়ে নিতে হবে ছাড়পত্র। একইসঙ্গে পরিচ্ছন্নতা, পানীয় জল, স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপত্তা–সব কিছুতেই সুষ্ঠু ব্যবস্থা রাখতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে রাজস্থানের কোটা, মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের মতো বেশ কিছু শহরে এমন অজস্র কোচিং সেন্টার খোলা হয়েছে যেখান পড়াশোনাকে কেন্দ্র করে বিশাল ব্যবসা গড়ে উঠেছে। পড়ুয়ারা সেখানে রীতিমতো হোস্টেলে থেকে প্রবেশিকার জন্য পড়াশোনা করেন। প্রবেশিকার চাপ সহ্য করতে না পেরে পড়ুয়াদের মধ্যে আত্মহত্যার খবরও প্রায়ই শিরোনামে আসে। এই প্রেক্ষিতেই শিক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নিত্যনতুন কোচিং সেন্টারগুলিকে নিয়ন্ত্রণ এবং পুরো বিষয়টিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার জন্য এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।