
পূজা খেদকার
শেষ আপডেট: 10 July 2024 19:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগে ট্রেনি আইএএস অফিসার পূজা খেদকারকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে এটাই একমাত্র অভিযোগ নয়। দাবি করা হয়েছে, তিনি আইএএস অফিসার হওয়ার জন্য 'প্রতিবন্ধী' হওয়ার নাটক করেছেন! আংশিকভাবে দৃষ্টিহীন ক্যাটেগরি এবং অন্যান্য অনগ্রসর ক্যাটেগরির আওতায় ভুয়ো সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন। এই ঘটনায় এখন তোলপাড় দেশে।
ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনে পূজা যে যে সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন তার সবকটিই ভুয়ো বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজেকে আংশিক দৃষ্টিশক্তিহীন এবং মানসিকভাবে অসুস্থ বলে দাবি করেছিলেন। এইসব তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষার্থীরা ইউপিএসসি-র তরফে বিশেষ সুবিধা পান। তাই পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়ার পরও পূজা ইউপিএসসি পরীক্ষায় ৮২১ র্যাঙ্ক করেছিলেন। যদিও পরীক্ষায় পাশ করার পর যখন তাঁকে মেডিক্যালেও পাশ করতে হত, সেই সময়ে তিনি কোনও মেডিক্যাল টেস্ট দিতে যাননি বলে অভিযোগ।
পূজাকে অন্তত ৬ বার মেডিক্যালের জন্য ডাকা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই তিনি নানা অজুহাতে সেই টেস্ট দিতে যাননি। ২০২২ সালে একাধিকবার তিনি মেডিক্যাল পরীক্ষা এড়িয়ে গেছিলেন। দিল্লির এইমস থেকে তাঁকে ডাকা হলেও তিনি নিজেকে করোনা পজিটিভ দাবি করে সেই পরীক্ষা এড়ান।
পরবর্তী সময়ে বাইরের একটি সেন্টার থেকে এমআরআই রিপোর্ট ইউপিএসসি-তে জমা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তা নাকচ করে দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, পরিবারের রাজনৈতিক যোগাযোগের সুবিধা নিয়ে সেই রিপোর্ট পাশ করিয়ে নিয়েছিলেন পূজা। এরপর ট্রেনি আইএএস অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে হালে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
শুরুতে মহারাষ্ট্রের পুণেতে অ্যাসিসট্যান্ট কালেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। তবে পূজার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ট্রেনি অফিসারদের যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা নয়, সেগুলি নিচ্ছিলেন তিনি। তাছাড়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে গাড়িতে লালবাতি এবং মহারাষ্ট্র সরকারের বোর্ডও লাগিয়ে ঘুরতেন পূজা। এমনকী অ্যাডিশনাল কালেক্টর না থাকার সুযোগে তাঁর ঘরে ঢুকে চেয়ার ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি নিজস্ব লেটারহেড, আলাদা গাড়ি, ভিআইপি নম্বরেরও দাবি ছিল তাঁর। বর্তমানে পূজাকে ওয়াশিম জেলার অ্যাসিসট্যান্ট কালেক্টর করে বদলি করে দেওয়া হয়েছে।