
সঞ্জীব খান্না
শেষ আপডেট: 19 December 2024 13:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'ডালে কিছু কালো আছে, না পুরো ডালটাই কালো, বুঝে উঠতে পারছি না!' এসএসসি চাকরি বাতিল মামলার শুনানিতে এমনই মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। রাজ্য সরকার, এসএসসি তো রয়েছেই, সিবিআই-এর তদন্ত নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। তার মধ্যে রয়েছে আবার ওএমআর সিটের জটিলতা। সব মিলিয়ে এমনই মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না।
এদিন মামলার শুনানির শুরুতেই সুপারনিউমেরি পোস্ট বা অতিরিক্ত পদের বিষয় নিয়ে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্নের মুখে রাজ্য সরকার। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য ছিল, অযোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করে বের না করে সুপারনিউমেরি পোস্ট তৈরি করা হল। এতে এটা নিশ্চিত করা গেল যে কেউই বাদ যাবে না। যদিও এই প্রসঙ্গে রাজ্যের আইনজীবী জানান, তাঁরা কাউকে নিয়োগ করেননি, কলকাতা হাইকোর্টের সম্মতি ছাড়া নিয়োগ সম্ভব নয়। একই সঙ্গে যোগ্য এবং অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের বাছাই করতে রাজ্যের সম্মতি রয়েছে কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, অযোগ্য প্রার্থীদের বাছাইয়ে তাঁদের সমর্থন রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এই বিষয়ে আলাদা করে তথ্য দিয়েছে।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে যে ওএমআর সিট উদ্ধার করেছিল সিবিআই তা নিয়ে চাকরিহারাদের আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, ওই সমস্ত ওএমআর সিটের বৈদ্যুতিন তথ্যের ৬৫বি এভিডেন্স আইন অনুযায়ী যাচাই করার কোনও শংসাপত্রও নেই। এদিকে এসএসসির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আদালতে বলা হয়েছে, কোনও টেন্ডার ছাড়াই নাইসাকে দায়িত্ব দিয়েছিল এসএসসি। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বক্তব্য, একটা জিনিস পরিষ্কার, আসল এবং স্ক্যান ওএমআর সিট এক নয়। অনেক কিছু গোপন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, ৬৫বি করলে বোঝা সম্ভব হার্ডডিস্ক থেকে কী ডাউনলোড করা হয়েছে আর কী আপলোড করা হয়েছে। তার সঙ্গে প্রমাণের কোনও সম্পর্ক আছে কি, প্রশ্ন তাঁর।
এসএসসি-র বিরুদ্ধে আবার ওএমআর শিটের 'মিরর ইমেজ' সংরক্ষণ না করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। তারা দায়িত্ব দিয়েছিল নাইসাকে। তারাও না করে স্ক্যানটেককে তথ্য দেয়। তারাও সংরক্ষণ করেনি, শুধু স্ক্যান করে ছেড়েছিল। এই প্রেক্ষিতে এসএসসি-র আইনজীবী বলেন, ধাপে ধাপে পরীক্ষা হয়েছে। তাই সব ওএমআর সিট সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব ছিল না। ২০২১ সাল পর্যন্ত কোনও অনিয়মের অভিযোগ আসেওনি। তবে ২৬ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা দেওয়ার পর কিছু নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে বলে কার্যত স্বীকার করে নেন তিনি। এরপরই কোন কোন ওএমআর শিটের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, সেই তথ্য দুপুর ২টোর মধ্যে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
এখন পুরো বিষয়টিই ওএমআর সিটের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে এও উঠে এসেছে যে, ওএমআর সিটের স্ক্যান কপির সঙ্গে এসএসসির তথ্য আলাদা। এমনকি স্ক্যানিংয়েও অনিয়ম করা হয়েছে। 'মিরর ইমেজ' যেহেতু এসএসসি রাখেনি, শুধু স্ক্যান কপি রয়েছে তাই যোগ্য-অযোগ্য কীভাবে আলাদা করা সম্ভব, সেই বিষয় নিয়েই চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়েছে।