অরুণাচল প্রদেশ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরেই চিনের দাবি ও নামকরণ নিয়ে বিরোধ চলছে। ২০১৭ সালে চিন প্রথম ছ’টি স্থানের নতুন নাম ঘোষণা করে। পরে ২০২১ সালে ১৫টি এবং ২০২৩ সালে আরও ১১টি স্থানের নাম প্রকাশ করে।

ভারত-চিন সম্পর্ক
শেষ আপডেট: 13 April 2026 07:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-চিন সম্পর্কের টানাপড়েনের (India China Relationship) মাঝে আবারও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল সীমান্ত ইস্যুতে। ভারতীয় ভূখণ্ডের বিভিন্ন জায়গার ‘কাল্পনিক নামকরণ’ এবং নতুন প্রশাসনিক প্রদেশ গঠনকে কেন্দ্র করে চিনের ভূমিকার বিরুদ্ধে সরব হল নয়াদিল্লি। স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
রবিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানায়, অরুণাচল প্রদেশ-সহ (Arunachal Pradesh) যে অঞ্চলগুলি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলি অতীতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। চিন যতই ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করুক না কেন, বাস্তব পরিস্থিতি বদলাবে না বলেই কড়া বার্তা দিয়েছে দিল্লি (Delhi)। পাশাপাশি, এই ধরনের পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার পথে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও সরকারি বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনও অঞ্চলের নাম বলা হয়নি, সূত্রের খবর, সম্প্রতি চিন (China) যে নতুন একটি প্রশাসনিক প্রদেশ তৈরি করেছে, তার প্রেক্ষিতেই এই প্রতিক্রিয়া। গত ২৬ মার্চ বেজিং শিনজিয়াং উইঘুর স্বশাসিত অঞ্চলে ‘সেনলিং’ নামে একটি নতুন কাউন্টি বা প্রদেশ গঠনের ঘোষণা করে। কৌশলগত দিক থেকে এই এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর এবং আফগানিস্তানের কাছে অবস্থিত। পাশাপাশি, কারাকোরাম পর্বতমালার নিকটবর্তী হওয়ায় এটি ভারত-চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (LAC) পশ্চিম অংশেরও কাছাকাছি।
এটি নতুন কিছু নয়, সাম্প্রতিক সময়ে এই নিয়ে তৃতীয়বার এমন পদক্ষেপ নিল চিন, যা ভারতের আপত্তির মুখে পড়েছে। এর আগে একই শিনজিয়াং অঞ্চলে ‘হিয়াং’ এবং ‘হেকাং’ নামে আরও দুটি প্রশাসনিক প্রদেশ গঠন করেছিল বেজিং। তখনও ভারত জানিয়েছিল, লাদাখের কিছু অংশকে সেই নতুন প্রশাসনিক মানচিত্রে দেখানো হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
অরুণাচল প্রদেশ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরেই চিনের দাবি ও নামকরণ নিয়ে বিরোধ চলছে। ২০১৭ সালে চিন প্রথম ছ’টি স্থানের নতুন নাম ঘোষণা করে। পরে ২০২১ সালে ১৫টি এবং ২০২৩ সালে আরও ১১টি স্থানের নাম প্রকাশ করে। চিন এই অঞ্চলকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’-এর অংশ বলে দাবি করলেও, ভারত বারবার তা খারিজ করে এসেছে।
সব মিলিয়ে, সীমান্ত নিয়ে এই ধরনের পদক্ষেপ যে দুই দেশের সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা স্পষ্ট। ভবিষ্যতে এমন কোনও কাজ না করার জন্য চিনকে বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।