আদালত জানায়, অফিসের মতো খোলা পরিবেশে কারও দিকে তাকিয়ে থাকা, যদিও অস্বস্তিকর ও অনৈতিক, তবুও তা এই আইনের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। তাই এই ঘটনায় ‘Voyeurism’-এর অভিযোগ আনা ঠিক নয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 11 April 2026 22:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অফিস মানে 'সেকেন্ড হোম', দিনের বেশিরভাগ সময়টা সেখানেই কাটে। ফলে কাজ করার জায়গায় নিরাপত্তা আর সম্মান আশা করাই যায় কিন্তু কখনও কখনও সহকর্মীর আচরণ সেই স্বস্তিকে ভেঙে দেয়। কারও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকায় অস্বস্তি (workplace harassment) বোধ করলেও, তা সবসময় আইনের চোখে অপরাধ নাও হতে পারে- এক সংবেদনশীল মামলায় এমনই মন্তব্য করল বম্বে হাইকোর্ট (Bombay High Court)।
হাইকোর্ট জানাল, মহিলা সহকর্মীর (female colleague) দিকে তাকিয়ে থাকার অভ্যাস অনৈতিক হলেও, গোপনে নজরদারির (Voyeurism) মতো অপরাধের আওতায় পড়ে না।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমিত বোরকার বলেন, "ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪সি ধারায় 'গোপনে নজরদারি' বা 'উঁকিঝুঁকি' বলতে বোঝায় এমন পরিস্থিতি, যেখানে কোনও মহিলার ব্যক্তিগত মুহূর্ত, যেমন পোশাক বদলানো, বাথরুম ব্যবহার বা ব্যক্তিগত যৌন আচরণ, তার অজান্তে দেখা, ছবি তোলা বা ছড়িয়ে দেওয়া। অর্থাৎ, যেখানে গোপনীয়তার প্রত্যাশা থাকে, সেই পরিস্থিতিই আইনের চোখে গুরুত্বপূর্ণ।
আদালত জানায়, অফিসের মতো খোলা পরিবেশে কারও দিকে তাকিয়ে থাকা, যদিও অস্বস্তিকর ও অনৈতিক, তবুও তা এই আইনের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। তাই এই ঘটনায় ‘Voyeurism’-এর অভিযোগ আনা ঠিক নয়।
এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আদালত একটি এফআইআর খারিজ করে দেয়। অভিযোগ ছিল, এক বেসরকারি বীমা সংস্থার কর্মী মিটিং চলাকালীন তাঁর মহিলা সহকর্মীর চোখের দিকে না তাকিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশের দিকে তাকাতেন এবং অশালীন মন্তব্য করতেন। তবে সংস্থার অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (ICC) আগেই ওই কর্মীকে ক্লিন চিট দিয়েছিল।
আদালত আরও জানায়, আইনকে তার নির্দিষ্ট সীমার বাইরে টেনে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। এই ধরনের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যাওয়া আইনের অপব্যবহার হতে পারে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
তবে আদালতের এই রায়ের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও উঠে এসেছে, আইনের চোখে অপরাধ না হলেও, এই ধরনের আচরণ কর্মক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সহকর্মীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করে এবং কর্মসংস্কৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।