
প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়।
শেষ আপডেট: 23 July 2024 21:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাকে বলে, রেগে আগুন তেলে বেগুন! সুপ্রিম কোর্টে আজ এমন অবস্থাই হয় দেশের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের। এক আইনজীবীর জ্বালাতনে এমনই রেগে গেলেন, যে বাধ্য হয়ে তাঁকে এজলাস থেকে বের করে দেন চন্দ্রচূড়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ওই আইনজীবী আবার ফিরে এসে দাবি করেন, তিনি অপমানিত হয়েছেন। সেই অপমানের জন্য আবার বিচারপতিকে নিজেই ক্ষমা করে দেন তিনি। সেই সঙ্গে আওড়ান, বাইবেলের সেই বিখ্যাত বাক্য। 'পিতা, তাদের ক্ষমা করুন, কারণ তারা জানে না তারা কী করছে!'
ঘটনায় হাসবেন না কাঁদবেন, বুঝতেই পারছেন না সুপ্রিম কোর্টের বিচারক মহল। এমন নাছোড়বান্দা আইনজীবী তাঁরা দেখেননি। দেখেননি প্রধান বিচারপতিকে এমন রেগে যেতেও। তার উপরে আবার শুনতে হল, বাইবেলের বাণীও!
আজ, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে নিট-ইউজি নিয়ে শুনানি চলছিল। একজন আবেদনকারীর হয়ে বেঞ্চে বক্তব্য রাখছিলেন নরেন্দ্র হুডা। অভিযোগ, সেই সময়েই বিচারপতির কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন এক আইনজীবী ম্যাথুস নেদুমপাড়া। বেঞ্চের এক প্রশ্নের জবাবে, নেদুমপারা বলে বসেন, তিনি আদালতের সমস্ত আইনজীবীদের মধ্যে সিনিয়রতম, তাই তিনিই সব উত্তর দিতে পারেন। নিজেকে 'অ্যামিকাস' বলেও দাবি করেন তিনি। অ্যামিকাস শব্দের অর্থ হল, আদালতের বন্ধু।
প্রধান বিচারপতি বিরক্ত হয়ে জবাব দেন, 'আমি কোনও অ্যামিকাস নিয়োগ করিনি।' তবু থেমে থাকেননি ওই আইনজীবী। তিনি বলেন, 'আপনি যদি আমাকে সম্মান না করেন তবে আমি চলে যাব।' এতেই প্রধান বিচারপতি তীব্র প্রতিক্রিয়া-সহ বলেন, 'মিস্টার নেদুমপাড়া, আমি আপনাকে সতর্ক করছি, আপনি গ্যালারিতে কথা বলবেন না। আমি আদালতের দায়িত্বে আছি।'
এর পরে সিকিউরিটি ডেকে ওই আইনজীবীকে আদালত থেকে সরিয়ে দিতে বলেন বিচারপতি। তখন ওই আইনজীবী বলেন, 'আমি যাচ্ছি, যাচ্ছি।' প্রধান বিচারপতি দ্বিগুণ রেগে বলেন, 'সেটা আপনাকে বলতে হবে না! আপনি চলে যেতে পারেন! আমি গত ২৪ বছর ধরে বিচার বিভাগ দেখেছি। আমি এই আদালতে আইনজীবীদের কাছ থেকে কাজ শিখব না।'
এখানেও থামেননি মিস্টার নেদুমপাড়া। বিচারপতির মুখের উপর উত্তর দিয়ে তিনি বলেন, 'আমি তো ১৯৭৯ সাল থেকে আদালত দেখেছি।' এর পরে শেষ সতর্কতার স্বরে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আমায় এমন কিছু নির্দেশ দিতে বাধ্য করবেন না, যা আপনার পক্ষে ক্ষতিকর হয়।'
একথা শুনে শেষমেশ আইনজীবী নেদুমপাড়া বেরিয়ে গেলেও, পরে তিনি আবার আদালতে ফিরে আসেন। বলেন, 'আমি দুঃখিত! কিন্তু আমি কোনও ভুল করিনি, বরং আমার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে।' এর পরে তিনি দাবি করেন, তাঁকে 'অপমান' করার জন্য তিনি প্রধান বিচারপতিকে 'ক্ষমা' করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বাইবেলের বাক্যাংশ ব্যবহার করেন, 'পিতা, তাদের ক্ষমা করুন, কারণ তারা জানে না তারা কী করছে!'
প্রসঙ্গত, আইনজীবী ম্যাথুস নেদুমপাড়াকে যে এই প্রথম আদালতে তিরস্কার করা হল, তা নয়। এর আগেও সুপ্রিম কোর্টে ইলেক্টোরাল বন্ড মামলায় শুনানির সময়ে ওই আইনজীবী হস্তক্ষেপ করতে চেয়েছিলেন এবং বাধা দিচ্ছিলেন চ্যাঁচামেচি করে। একাধিকবার বারণ করার পরে এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি দৃঢ়ভাবে বলেন, 'আমাকে নিয়ে চিৎকার করবেন না... এটা হাইড পার্ক কর্নার মিটিং নয়, আপনি আদালতে আছেন। আপনি আবেদন করতে চাইলে সেটাই করুন। সেটাই আদালতের নিয়ম।'
এই ঘটনার চার মাসের মাথায় আবারও শিরোনামে এলেন নেদুমপাড়া, একই রকম তিরস্কারের কারণে। তবে এবার তাঁর আচরণ সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলেই মনে করছেন আদালতের একাংশ। সেই সঙ্গে, প্রধান বিচারপতিকেও আগে কখনও এতটা রাগতে দেখা যায়নি।