
বিষ্ণুদেও সাই
শেষ আপডেট: 22 February 2025 16:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাইয়ের ছত্তীসগড় সরকার রাজ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যে ঢেউ তুলতে নয়া বিধি নিয়ে এল। এককথায় ছত্তীসগড়ের মতো রাজ্যে বৈপ্লবিক স্বাধীন পদক্ষেপ নিল। এখন থেকে রাজ্যের সমস্ত দোকানপাট, পার্লার, কাফে-রেস্তরাঁ সাতদিন, ২৪ ঘণ্টা খুলে রাখা যাবে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ব্যবসায় বৃদ্ধি, আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং শহুরে পরিকাঠামো উন্নতির লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যদিও আগের মতোই পানশালা ও মদ বিক্রির দোকান রাত ১০টাতেই বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে রাতের ডিউটিতে মহিলা কর্মী নিয়োগেও ছাড় দিয়েছে সাই সরকার। ক্যাবিনেট মন্ত্রী লখনলাল দেবাঙ্গন এই ঘোষণার সময় বলেন, ছত্তীসগড়ের সব দোকান এখন থেকে সারাক্ষণ খোলা থাকতে পারে। মহিলারাও রাতের শিফটে কাজের ছাড়পত্র পাবেন।
এর আগে পর্যন্ত রাজ্যে সপ্তাহের যে কোনও একটি দিন দোকান বন্ধ রাখার বিধি ছিল। এখন ব্যবসাদাররা কাজের আরও সময় পাবেন, যাতে রাজ্যের ব্যবসাবাণিজ্যের আরও শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে। অবশ্য সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, ২৪ ঘণ্টা দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা গেলেও কোনও আইন ভঙ্গ করা যাবে না। যেমন- শ্রমিক ও কর্মীদের অধিকার সুনিশ্চিত রাখতে হবে। প্রত্যেক কর্মীকে সাপ্তাহিক একটি দিন ছুটি দিতে হবে। দিনে কাউকে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো চলবে না। অতিরিক্ত হিসেবে দোকান মালিককে অবশ্যই শ্রম কল্যাণ বিধি ও নীতি মেনে চলতে হবে। কর্মীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
দোকান রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াতেও বদল এনেছে সরকার। যারা ইতিমধ্যেই এএসআই এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড প্রকল্পে আছেন তাঁদের নাম নিজে থেকেই নতুন কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। মালিকদের শ্রমিক পরিচিতি নম্বর দিতে হবে অবশ্যই করে, যাঁরা ৬ মাস পর রেজিস্ট্রি করাতে আসবেন তাঁদের সরকারি বিধি অনুযায়ী জরিমানা গুনতে হবে। সেই মতো এখন থেকে দোকান ও প্রতিষ্ঠান রেজিস্ট্রেশন হবে শ্রম দফতরের অধীনে, যা আগে ছিল পুরসভার হাতে। রেজিস্ট্রেশন ফি এক হাজার টাকা থেকে ১০,০০০ টাকা করা হয়েছে। কর্মী সংখ্যা অনুযায়ী এর হেরফের ঘটবে, আগে এটা ছিল ১০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত।
অবশ্য এই বিধি নিয়ে মহিলা মহলেও আলোচনা জোরদার হয়েছে। কারণ রাজধানী রায়পুর শহরেই বাস চলে সন্ধে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। একটু রাত পর্যন্ত কাজ করা মহিলারা গভীর আশঙ্কা বুকে নিয়ে ঘরে ফেরেন। কারণ রায়পুরেই রাত ৮টার পর গাড়িঘোড়া কমে যাওয়ায় রাস্তাঘাট শুনশান হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে রাতের শিফটে কাজ করা মহিলাদের কী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে মহিলা সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা নেয়, তার অপেক্ষায় আছেন কর্মরতারা।