
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 3 March 2025 16:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মানা গ্রামের কাছে কাজ চলছিল। দায়িত্বে ছিল বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (BRO)। তাদেরই একটি ক্যাম্প সম্পূর্ণভাবে বরফের নীচে চাপা পড়ে যায় শুক্রবার। শনিবার পর্যন্ত ৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়। পরে রবিবার বরফের চাঁই তুলতেই সকলের মুখ ছোট হয়ে যায়। বেরিয়ে আসে বরফে ঢাকা মৃতদেহ। শেষ যে চারজন চাপা পড়েছিলেন। তাদের কাউকেই বাঁচানো যায়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
প্রবল তুষারপাত ও বৃষ্টির কারণে শুক্রবার রাতের পর উদ্ধারকাজ কিছুটা স্থগিত রাখা হয় শনিবার, তবে রবিবার সকালে আবহাওয়া পরিষ্কার থাকায় পুনরায় কাজ শুরু হয় জোরকদমে। ভারতীয় সেনা, আইটিবিপি (ITBP), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), BRO এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-র প্রায় ২০০-রও বেশি কর্মী অক্লান্ত পরিশ্রম চালান। রবিবার সকালে চারজন নিখোঁজ শ্রমিকের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁকে মৃত অবস্থাতেই উদ্ধার করা হয়। বাকি ছিলেন তিনজন। রবিবার রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও টানা কাজ চালিয়ে একে একে বাকি তিনজনকে বরফের তলা থেকে বের করা হয়।
দেখা যায়, কারও দেহে প্রাণ নেই। হবেই বা কী করে, একে ঠান্ডা তারওপর শরীরে পাওয়া চোট। ম্যাজিক ছাড়া যে বাঁচা সে অর্থে সম্ভব নয়, তা বলছেন স্থানীয়রাই। তবে, প্রত্যেকেই এই পরিস্থিতিতেও প্রশংসা করছেন উদ্ধারকাজের। ভিক্টিম লোকেটিং ক্যামেরা (VLC), থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা, গ্রাউন্ড পেনিট্রেশন ব়্যাডার, ড্রোন, ইউএভি (Unmanned Aerial Vehicle)-র মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এক্ষেত্রে। প্রশিক্ষিত অ্যাভালাঞ্চ রেসকিউ ডগ, বায়ুসেনার এমআই ১৭ হেলিকপ্টার ও তিনটে চিতা হেলিকপ্টারকেও কাজে লাগানো হয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনী সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, ৫৪ জন শ্রমিকের মধ্যে ৪৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ৮ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সন্দীপ তিওয়ারি সকল উদ্ধারকারী সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বলেছেন, 'আমি সেনাবাহিনী, ITBP, বায়ুসেনা, NDRF এবং SDRF-এর প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁদের সময়োচিত প্রচেষ্টায় অভিযান সফলভাবে শেষ হয়েছে।'
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি তুষারধসে নিহত BRO কর্মীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।