রাহুলকে "সার্টিফায়েড দেশদ্রোহী" (Anti national) আখ্যা দিল পদ্ম শিবির। অভিযোগ, তিনি "ভারতকে দুর্বল আর চিনকে শক্তিশালী করতে চাইছেন"।

রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 5 August 2025 07:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেনাবাহিনী (Indian Army) নিয়ে মন্তব্যের জেরে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) ভর্ৎসিত হতে হয়েছে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi)। আর সেই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে বিজেপি (BJP)। রাহুলকে "সার্টিফায়েড দেশদ্রোহী" (Anti national) আখ্যা দিল পদ্ম শিবির। অভিযোগ, তিনি "ভারতকে দুর্বল আর চিনকে শক্তিশালী করতে চাইছেন"।
সোমবার শীর্ষ আদালত রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে লখনউয়ের একটি আদালতে চলা মামলার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করলেও, সেনা সম্পর্কে তাঁর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে জানায়— "একজন প্রকৃত ভারতীয় এমন কথা বলতেই পারেন না।"
এরপরই বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম সুপ্রিম কোর্টের তরফে বিরোধী নেতার বিরুদ্ধে এত কড়া ভাষা ব্যবহার করা হল। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হোক বা অপারেশন সিঁদুর— কংগ্রেস ও রাহুল সেনাবাহিনীর আত্মত্যাগকে প্রশ্ন তুলেছেন বারবার।”
বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে রাহুল গান্ধীকে ভর্ৎসনা করেছে, তাতে বলা যেতেই পারে যে, তিনি ভারতকে দুর্বল করে চিনকে শক্তিশালী করতে চেয়েছেন।”
তাঁর দাবি, “সেনা সম্পর্কে এমন অবমাননাকর মন্তব্য একজন বিরোধী নেতার পক্ষে দুর্ভাগ্যজনক। তিনি এখন ‘চিনা গুরু’। এমনকি কংগ্রেসের চিনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে করা গোপন সমঝোতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।”
ভাটিয়ার আরও অভিযোগ, “ডোকলাম হোক বা গালওয়ান, ভারতের সেনারা যখন বুক চিতিয়ে লড়েছে, তখন রাহুল বলেছিলেন ভারতীয় সেনারা মার খাচ্ছে চিনা সেনার হাতে। এ কোন মনোভাব?”
বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের জন্য আবারও সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসিত রাহুল গান্ধী। একজন বিরোধী নেতার এমন মন্তব্য কল্পনাতীত।”
অন্যদিকে বিজেপির আরেক মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, “সেনার অপমান এখন কংগ্রেসের পরিচয়। কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী সেনাবাহিনীর প্রতি ঘৃণা পোষণ করেন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।”
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে রাহুল বলেছিলেন, ভারতের অর্থনীতি “মরে গেছে”, যা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি নেতারা। তাঁরা বলেন, এমন মন্তব্য রাশিয়া ও পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কেও বিভ্রান্তিকর বার্তা দেয়।