
ছবিটি প্রতীকী
শেষ আপডেট: 30 April 2025 17:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধীদের দাবি মেনে এবার জাতভিত্তিক জনগণনার (Caste Census) প্রতিশ্রুতি দিল কেন্দ্র। বুধবার এই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটির বৈঠকে গৃহীত হয়েছে। এদিন সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সুপার ক্যাবিনেট বৈঠক বসে। গোটা দেশের ও সংবাদ মাধ্যমের আশা ছিল, পহেলগাম কাণ্ডের পরবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জঙ্গি নিকেশ কিংবা পাকিস্তান বিরোধী কোনও অবস্থান নেবে কেন্দ্র। প্রথমে সরকারি সংবাদ ব্যুরো জানায়, দুপুর ৩টের সময় প্রেস ব্রিফিং করা হবে। পর মুহূর্তে সময় বদলে ৪টে করা হয়।
তখনও সকলের মনে আশা জেগেছিল সম্ভবত ক্যাবিনেট চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শেষপর্যন্ত সরকার পাকিস্তান ও পহেলগাম কাণ্ডকে পিছনে ফেলে আখ উৎপাদন, আখের ভরতুকি মূল্য এবং জাতিভিত্তিক জনগণনা নিয়ে ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, প্রত্যাঘাত সম্পর্কে বিজেপি সরকার প্রকাশ্যে কিছু জানাতে নারাজ। অপারেশন বা সামরিক অভিযান যাই হোক না কেন, রণকৌশল একেবারে গোপন রাখতে চায় তারা।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এনিয়ে বলেন, 'ক্যাবিনেট কমিটি অন পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স পরবর্তী জনগণনা অভিযানে জাতভিত্তিক গণনা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।' এরপরই তিনি কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন। তাঁর মতে, 'কংগ্রেস সবসময় জাতভিত্তিক জনগণনার বিরোধিতা করে এসেছে। ইন্ডিয়া জোটের দলগুলোও জাতভিত্তিক জনগণনার বিষয়টিকে কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে।'
এই প্রসঙ্গেই তাঁর কথায় উঠে আসে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংয়ের কথা। বলেন, '২০১০ সালে এনিয়ে পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রীদের একটি দল (গ্রুপ অফ মিনিস্টার্স) গঠন করা হয়। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল জাতভিত্তিক জনগণনার সুপারিশ করেছিল। তা সত্ত্বেও, কংগ্রেস কেবল একটি সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, প্রকৃত অর্থে জাতভিত্তিক জনগণনা করেনি সেসময়।'
মন্ত্রীর অভিযোগ, ইন্ডিয়া জোটের সদস্য দলগুলি এমন জনগণনাকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ব্যবহার করেছে। সেই সূত্রেই নাকি কিছু রাজ্য জাতভিত্তিক জনগণনা করেছে। যাতে স্বচ্ছতা রক্ষা হয়নি। এবিষয় যদিও এপর্যন্ত বিরোধিদের তরফে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।