
বর্নভিটা কি নিরাপদ? কেন হেলথ ড্রিঙ্ক ক্যাটেগরি থেকে দ্রুত সরানোর নির্দেশ দিল কেন্দ্র - ছবি সংগৃহীত ।
শেষ আপডেট: 13 April 2024 19:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্নভিটা এবং বর্নভিটার মতোই একাধিক ব্র্যান্ডের পানীয়কে ‘হেলথ ড্রিঙ্কস’ ক্যাটেগরি থেকে সরানোর জন্য সমস্ত ই-কমার্স সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। মানি কন্ট্রোলের রিপোর্ট বলছেন, ই-কমার্স সংস্থাগুলির পোর্টালে বর্নভিটা বা ওই জাতীয় পানীয়কে যাতে ‘হেলথ ড্রিঙ্কস’ বিভাগে না রাখা হয়, তার জন্য বিশেষ নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
মানি কন্ট্রোলের রিপোর্ট বলছে, ‘ন্যাশনাল কমিশন অফ প্রোটেকশন ফর চাইল্ড রাইটস’ সিআরপিসি অ্যাক্ট ২০০৫ এর সেকশন ১৪ এর আওতায় এক তদন্ত চালায়। সেই তদন্তে দেখা গিয়েছে, বর্নভিটায় মাত্রারিক্ত চিনি রয়েছে। সাধারণত এই ধরনের পানীয়তে যে পরিমাণ চিনি থাকা উচিত, সেই মাপকাঠি পেরিয়ে গেছে বর্নভিটা। এর আগে, ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’কে ‘ন্যাশনাল কমিশন অফ প্রোটেকশন ফর চাইল্ড রাইটস’ তরফে এই সংস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছিল। সেই সময় বর্নভিটা কোম্পানি জানিয়েছিল, তাদের পানীয় বাচ্চাদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। এমনকী কী কী উপাদান তারা ব্যবহার করছে সে তালিকাও দেওয়া হয়েছিল কোম্পানির তরফে।
কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, বর্নভিটায় চিনির মাত্রা বিপজ্জনক। তাছাড়া এই পানীয়ে ক্ষতিকারক রং, বাড়তি কোকো ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। শুধু বর্নভিটা নয়। বর্নভিটা সহ একাধিক পানীয়কে আর হেলথ ড্রিঙ্কের তালিকায় রাখা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।
গবেষণা বলছে, বর্নভিটার মতো হেলথ ড্রিঙ্ক চিনির ভাণ্ডার। এতে ভিটামিন, মিনারেলস থাকে ঠিকই কিন্তু সুগার কনটেন্ট বা চিনির পরিমাণ এতটাই বেশি যে তা বাচ্চার শরীরের জন্য বিষের সমতুল্য। প্রতি চামচে এত পরিমাণ চিনি ঢোকে বাচ্চার শরীরে যা পরবর্তী সময়ে নানারকম অসুখের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
এখনকার বাচ্চাদের ছোট থেকেই ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, লিভারের অসুখ দেখা দিচ্ছে। বেশিরভাগই ভুগছে ওবেসিটিতে। তার অন্যতম কারণ বাজারচলতি হেলথ ড্রিঙ্ক। গরুর দুধ বাচ্চা খেতে না চাইলে, তার নানারকম বিকল্প উপায় আছে। কিন্তু বাবা-মায়েরা বিজ্ঞাপনী চমকে ভুলে বাজার থেকে হেলথ ড্রিঙ্কই কিনে আনছেন। এতে লাভের বদলে ক্ষতি হচ্ছে বেশি। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বর্নভিটার ২ চামচ মানে ২০ গ্রামে সাড়ে সাতগ্রামেরও বেশি চিনি থাকে। প্রতি ১০০ গ্রামে চিনি থাকে ৭৩.১ গ্রাম। তার মানেই ভেবে দেখুন, প্রতিদিন যদি দু'বার করেও বর্নভিটা খায় বাচ্চা, তাহলে কতটা চিনি ঢুকছে শরীরে। সাতদিনে চিনির পরিমাণ কত?
হিসেব করলেই আঁতকে উঠবেন। এদিকে ডাক্তাররা বলছেন, ৭ থেকে ১০ বছর বয়সি বাচ্চাদের ২৪ গ্রামের (৬ চামচ মতো) বেশি চিনি খাওয়াই উচিত নয়। ৭ বছরের কম হলে ১৯ গ্রামের বেশি নয়, আর পাঁচ বছরের নীচের বাচ্চাদের চিনি খাওয়াই বিপজ্জনক।
বর্নভিটার প্যাকেটেই লেখা থাকে প্রতি ১০০ গ্রামে চিনির মাত্রা ৭৩.১ গ্রাম। এটা খেয়াল করেন না অভিভাবকরা। গুঁড়ো চিনি এমনভাবে মেশানো থাকে এইজাতীয় মল্ট হেলথ ড্রিঙ্কে যে বোঝা সম্ভব নয়। নিয়মিত এই ধরনের হেলথ ড্রিঙ্ক খেতে শুরু করলে ওবেসিটি তো বটেই, কার্ডিওভাস্কুলার রোগ, ডায়াবেটিস, ক্রনিক রেসপিরেটারি ডিজিজ, ক্যানসারের মতো নন-কমিউনিকেবল রোগের (NCD) ঝুঁকি বাড়বে বাচ্চাদের।