
জিকা ভাইরাস বাড়াচ্ছে আতঙ্ক
শেষ আপডেট: 3 July 2024 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জিকা ভাইরাস নিয়ে চিন্তা বাড়ছে আমজনতার। বিষয়টি যে খুব সাধারণ নয় সেটা ইতিমধ্যে বুঝে গেছে কেন্দ্রীয় সরকারও। তাই কোনও বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই সতর্কতা জারি করে দিল তারা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জিকা ভাইরাস নিয়ে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
জিকা একটি মশাবাহিত রোগের ভাইরাস। এই ভাইরাস সাধারণত এডিস মশা থেকে ছড়ায়। আর এই সময়টা যেহেতু বর্ষার তাই মশার বাড়বাড়ন্তে জিকার প্রকোপ যে বাড়তে পারে সেই আশঙ্কা রয়েছে। এই রোগে গর্ভবতী মহিলাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কিছু বেশি। তাই তাঁদের ওপর বিশেষ নজরদারি করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সমস্ত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে ভাইরাস সম্পর্কিত বার্তা পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট বলা হয়েছে, হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে অবশ্যই মশারি রাখতে হবে এবং প্রয়োজন মতো তা ব্যবহার করতে হবে। কোনও জায়গাতেই যাতে মশার বাড়বাড়ন্ত না হয় সেটা খেয়াল করতে হবে। উপসর্গ দেখা মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বিশেষভাবে জরুরি। জানা গেছে, ৮০ শতাংশের বেশি জিকা ভাইরাস আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে প্রথম উপসর্গই জ্বর। এছাড়াও শরীরে ব়্যাশ দেখতে পাওয়া যায়। কারও কারও আবার শ্বাসকষ্টও হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শুধু মশার কামড় থেকে নয় যৌনসম্পর্কের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়তে পারে সংক্রমণ। অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছড়ায় জিকা ভাইরাস। কিন্তু গর্ভবতী মহিলাদের নিয়ে এত বেশি চিন্তা কেন? কারণ, এই ভাইরাসে সংক্রামিত হলে ভ্রূণের মাইক্রোসেফালি অর্থাৎ শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হয়ে যাতে পারে। অসম্পূর্ণ মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মাতে পারে শিশু। এদিকে মশাবাহিত এই রোগের সেভাবে কোনও চিকিৎসা না থাকায় চিন্তায় স্বাস্থ্য কর্তারা।
২০২২ সাল থেকেই বর্ষার সময়ে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ে। প্রধানত দক্ষিণের রাজ্যে ছড়িয়েছিল এই ভাইরাস। গত বছরে ফের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর মেলে মহারাষ্ট্র থেকে। এবারেও বর্ষার মুখে খবর মিলেছে ভাইরাস সংক্রমণের। আতঙ্ক ছড়িয়েছে মহারাষ্ট্রে, কর্নাটকে।