
শেষ আপডেট: 22 February 2024 11:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশি। ২২০০ কোটি টাকার কিরু জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়ার জন্য ৩০০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই দুর্নীতির তদন্তেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মালিকের বাড়ি সহ ৩০টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে সিবিআই।
সত্যপাল মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কাশ্মীরের রাজ্যপাল থাকাকালীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের দুটি বড় বরাতের ফাইল ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৩০০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। এই মামলার তদন্তেই এদিন মালিকের দিল্লির বাড়িসহ জম্মু-কাশ্মীরের ৩০টি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে সিবিআই। কিস্তওয়ারের চন্দ্রভাগা নদীর উপর গড়ে উঠছে এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
জম্মু-কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ার আগে সত্যপাল মালিকই ছিলেন রাজ্যের দশম ও শেষ রাজ্যপাল। গতবছর এপ্রিলে এক টিভি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তীব্র সমালোচনা করেন মালিক। তারপর থেকেই মোদীর বিরাগভাজন হতে শুরু করেন। সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, পুলওয়ামা কাণ্ড নিয়ে মোদী সরকার জেনেবুঝে ভুল করেছিল। গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও সেনাদের জম্মু থেকে শ্রীনগরে বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, এ বিষয়ে তাঁকে মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন মোদী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। কারণ তাঁর দাবি, তিনি জানতেন যে বিষয়টি পাকিস্তানের ঘাড়ে চাপানো হবে।
ওই সাক্ষাৎকারেই তিনি বলেন, দুর্নীতিকে অপছন্দ করেন না মোদী। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কোনও ব্যবস্থা নেন না, কারণ তাঁরা তাঁর ঘনিষ্ঠ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকেও আঙুল তুলে বলেন, সিআরপিএফ বিমানে নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছিল। কারণ এত বড় সংখ্যায় বাহিনী সড়কপথে যায় না। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। একইসঙ্গে মালিক দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ব্যর্থতার দিকেও অভিযোগের দায় চাপিয়ে দিয়েছিলেন।
মালিকের সেই সাক্ষাৎকারের সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীরা মোদী-শাহকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। যা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় সরকারকে। সেই ঘটনার পর থেকে সত্যপাল মালিক চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন মোদী, বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারের।