
প্রফুল প্যাটেল - ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 29 March 2024 09:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের এনসিপি নেতা প্রফুল প্যাটেলকে দুর্নীতির মামলায় ক্লিনচিট দিল সিবিআই। প্রফুল বর্তমানে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার শিবিরের অন্যতম নেতা। একদা শরদ পাওয়ারের ঘনিষ্ঠ এবং পুত্রসম বলে পরিচিত প্রফুল ইউপিএ আমলে কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকারি বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার লাভদায়ক রুট বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া এবং বিশেষ এজেন্সি মারফত বিমান কেনার বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে মামলা ঠুকেছিল সিবিআই। সেই মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে ইডিও।
বিরোধীদের অভিযোগ, আট মাস আগে মহারাষ্ট্রে রাজনীতির পালাবদলের সুবিধা এবার পেলেন প্রফুল। তিনি অজিতের হাত ধরে বিজেপির সঙ্গী হন। তাপরই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা গোটানোর তোড়জোড় শুরু হয়। এর আগে তদন্ত বন্ধ হয়ে যায় অজিতের বিরুদ্ধেও। আগের সরকারের সেচমন্ত্রী হিসাবে অজিতের বিরুদ্ধে কয়েকশো কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছিল ইডি। এনসিপি ভেঙে অজিত তাঁর অনুগামীদের নিয়ে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনসিপি-তে যোগদানের পর থেকে ইডি আর উচ্চবাচ্য করছে না। অথচ শিবির বদলের এক সপ্তাহ আগেও ইডির দফতরে নিয়ম করে হাজিরা দিতে হত শরদ পাওয়ারের ভাইপোকে।
গত বছর অজিত এনসিপি-তে ভাঙন ধরানোর পর শুরুতেই তাঁর হাত ধরেননি প্রফুল। শরদ পাওয়ার মেয়ে সুপ্রিয়া সুলহের সঙ্গে প্রফুলকেও দলের কার্যকরী সভাপতি ঘোষণা করেন। কিন্তু সপ্তাহ দুয়েকের মাথায় তিনিও শিবির বদল করেন। তখনই বিরোধীরা অভিযোগ করেছিল সিবিআইয়ের মামলা নিয়ে প্রফুলের সঙ্গে বিজেপির ডিল হয়েছে।
ইউপিএ আমলে বিমানমন্ত্রী হিসাবে বারে বারে বিতর্কে জড়ান প্রফুল। কিন্তু শরদ পাওয়ারের ঘনিষ্ঠ নেতার ব্যাপারে কংগ্রেস তেমন একটা সরব হয়নি। ইউপিএ আমলেই অভিযোগ ওঠে লাভদায়ক রুট বিক্রি থেকে শুরু করে বিমান কেনায় প্রফুলের এক ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ি ডিল করছেন। তাঁর মাধ্যমেই প্রফুলের কাছে সুবিধা পৌঁছে যাচ্ছে। পরে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে সিবিআই।
মূল মামলায় সিবিআই ক্লিনচিট দিয়ে দেওয়ায় এখন ইডির মামলা প্রত্যাহার সময়ের অপেক্ষামাত্র। গত ১৯ মার্চ সিবিআই দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে প্রফুলকে ক্লিনচিট দিয়ে নথিপত্র জমা করে। আগামী ১৯ এপ্রিল আদালত এই ব্যাপারে সিবিআইয়ের বক্তব্য শুনবে।