
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
শেষ আপডেট: 26 June 2024 10:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিপদ বেড়েই চলেছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। মঙ্গলবার দিল্লি হাই কোর্টে তাঁর জামিনের আদেশের উপর স্থগিতাদেশ জারির পর পরই আর এক কেন্দ্রীয় এজেন্সি সিবিআই কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করল। তারা মঙ্গলবার তিহাড় জেলে গিয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে দীর্ঘ সময় মদ কাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বেশি রাতে তাঁকে সরকারিভারে গ্রেফতার ঘোষণা করে সিবিআই। বুধবার একটু আগে কেজরিওয়ালকে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে হাজির করেছে সিবিআই। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এখন ইডির মামলায় তিহাড় জেলে বন্দি।
এদিকে, বুধ অথবা বৃহস্পতিবার কেজরিওয়ালের জামিনের আবেদন সংক্রান্ত মামলার রায় দিতে পারে সুপ্রিম কোর্ট। গত সপ্তাহে শীর্ষ আদালত বলেছিল, ওই সংক্রান্ত মামলায় হাই কোর্টের রায় শোনার পর তারা পদক্ষেপ করবে। মঙ্গলবার দিল্লি হাই কোর্ট জানিয়েছে, নিম্ন আদালত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর জামিন মঞ্জুর করার সময় ইডির পেশ করা নথি ঠিক মতো খতিয়ে দেখেনি।
প্রসঙ্গত, গত ২০ মে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত কেজরিওয়ালের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছিল। কিন্তু তিহাড় থেকে তিনি বের হওয়ার আগেই ইডি দিল্লি হাই কোর্টে গিয়ে জামিনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় শেষ পর্যন্ত কেজরিওয়ালের জামিন খারিজ হয়ে গিয়েছে। এখন শেষ ভরসা সুপ্রিম কোর্ট।
আপ নেতা তথা মদ মামলায় আর এক অভিযুক্ত সঞ্জয় সিং এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট জামিনের আবেদনে সাড়া দিতে পারে বুঝে সিবিআই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে। আসলে মোদী সরকার চায় না আপ সুপ্রিমো জেল থেকে মুক্তি পান।
দিল্লির মদকাণ্ডে মূল মামলাকারী আসলে সিবিআই। পরে ইডি মামলায় যুক্ত হয়ে তদন্ত শুরু করে। তারাই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে। তার আগে প্রাক্তন আবগারি মনীশ সিসোদিয়া, তেলেঙ্গানার বিআরএস নেত্রী কে কবিতা প্রমুখকে গ্রেফতার করে ইডি। রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংকেও তারা গ্রেফতার করেছিল। তিনি আপাতত জামিনে মুক্ত।
আপের আশঙ্কা, সিবিআই কেজরিওয়ালকে হেফাজতে নিয়ে কেজরিওয়ালকে জেলে আটকে রাখার মেয়াদ বাড়াতে চাইছে। মুখ্যমন্ত্রী জেলে থাকলে কীভাবে রাজ্য চলবে এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা কেন্দ্র নিজে থেকে দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পথে হাঁটতে চায় না। এই বিষয়ে নানা মহল থেকে দাবি ওঠার পর পদক্ষেপ করবে। গত ২১ মার্চ ইডি গ্রেফতার করে কেজরিওয়ালকে। লোকসভা ভোটের দিন কয়েক আগে তাঁকে অন্তবর্তী জামিনে মুক্তি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ৫ জুন তাঁকে ফের জেলে চলে যেতে হয়েছে।