
দুর্ঘটনায় ডুবে যাচ্ছে লঞ্চ - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 December 2024 09:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব সাগরে লঞ্চডুবির ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১০০ জনকে উদ্ধার করা গেছে। যদিও কিছুজন এখনও নিখোঁজ। সেই প্রেক্ষিতে উদ্ধারকাজ চলছে। এরই মধ্যে একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে যাতে দেখা যাচ্ছে, জলে পড়ে গিয়ে বহু যাত্রী বাঁচার জন্য চিৎকার করছেন। কারণ তাঁদের ফেরি ধীরে ধীরে জলে ডুবে যাচ্ছে।
বুধবার দুপুরে লঞ্চটি মুম্বইয়ের গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া থেকে এলিফ্যান্টা আইল্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। ৩টে ৫৫ নাগাদ 'নীলকমল' নামের ওই লঞ্চটিতে ধাক্কা মারে নৌসেনার একটি ছোট স্পিড বোট। তারপরই তা উল্টে যায় ও ডুবতে শুরু করে। নৌসেনার তরফে জানান হয়েছে, ৪টি নৌসেনার হেলিকপ্টার, ১১টি বিমান এবং একটি কোস্ট গার্ড বোট উদ্ধারকাজে নেমেছিল। যত দ্রুত সম্ভব সকলকে উদ্ধার করা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১১০ জন যাত্রী ও পাঁচজন লঞ্চের লোকজনকে নিয়ে নীলকমল এলিফ্যান্টার উদ্দেশে যাচ্ছিল বুধবার। উদ্ধার হওয়া কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ইতিমধ্যে মৃতদের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন।
এদিকে নৌসেনার স্পিড বোটের চালকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। কোলবা থানায় এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় উদ্ধার হওয়া এক যাত্রী তাঁর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে থানায় মামলা করেছেন। তার ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে মুম্বই পুলিশ। নৌসেনার তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, কোনও কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে কীসের ত্রুটি ছিল, সেটা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
এদিকে উদ্ধার হওয়া লঞ্চের যাত্রীদের অধিকাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের কোনও লাইফ জ্যাকেটই দেওয়া হয়নি। গৌতম গুপ্তা নামের এক যাত্রী জানিয়েছেন, ধাক্কা লাগার পর যখন সকলে জলে পড়ে যান তখনই তাঁরাই উদ্ধারকাজে নামেন। কিন্তু লাইফ জ্যাকেট না থাকায় অনেকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি নিজেও তাঁর কাকিমাকে হারিয়েছেন।
জওহরলাল নেহরু পোর্টের এক আধিকারিক এবিষয়ে জানান, এই ঘটনা প্রথম দেখতে পান উপকূলে উপস্থিত মৎস্যজীবীরা। তাঁরাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। তারপর পুলিশের তরফে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পাঠানো হয়।