.webp)
শেষ আপডেট: 3 October 2024 13:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ভোট চাইতে আসতেই পারেন। শর্ত হল, আমাদের গ্রামে এসে এখানকার এক গ্লাস জল খেতে হবে।’ সমসপুর গ্রামে প্রবেশের মুখে সাইন বোর্ডে লেখা কথাগুলি।
সামসপুর হরিয়ানার চরখি দাদরি বিধানসভা এলাকার একটি গ্রাম। আগামী শনিবার হরিয়ানার ৯০ আসনের বিধানসভার ভোট গ্রহণ করা হবে। বৃহস্পতিবার বিকালে ভোটের প্রচার শেষ হয়ে যাচ্ছে। সামসপুরে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রার্থী ভোট চাইতে যাননি। কারণ, অসুস্থ হওয়ার ভয়ে ওই গ্রামের জল খাওয়ার ঝুঁকি নিতে চাননি কোনও প্রার্থী।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, পঞ্চায়েত যে জল সরবরাহ করে তাতে দুর্গন্ধ। জলের রংও ভাল নয়। রান্না, স্নান, জামাকাপড় কাঁচা কিছুই করা যায় না ওই জলে। এক গ্রাস দল খেলেই পেট খারাপ শুরু হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে মোটা টাকা খরচ করে পানীয় জল কিনে খেতে হয় তাদের। যদিও পঞ্চায়েত ওই দুর্গন্ধময় জলের জন্যও পয়সা নেয়।
হরিয়ানায় এবার বিধানসভা ভোটে নাগরিক পরিষেবা এবং চাষবাসের সমস্যা প্রায় সব কেন্দ্রেই ইস্যু হয়ে গিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন জাতপাতের চেনা অঙ্কেই শুধু ভোট হবে না এবার। মানুষ সরকারের পাশাপাশি পঞ্চায়েত, পুরসভার কাজের হিসাবও নিচ্ছে।
আর সেই কারণেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিজেপির। গত দশ বছর পদ্ম শিবিরের দখলে উত্তর ভারতের এই রাজ্যটি। বিজেপির একাধিক প্রার্থী ভোট চাইতে গিয়ে বড় ধরনের আক্রমণের মুখে পড়েছেন।
সোম ও মঙ্গলবার রতিয়া এবং হিসার বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থীরা জন-বিক্ষোভের মুখে পড়েন। রতিয়াতে বিজেপির প্রার্থী প্রাক্তন সাংসদ সুনীতা দুগ্গল কৃষক বিক্ষোভের মুখে গ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন। ভারতীয় কিসান ইউনিয়ন (খেতি বাঁচাও)-এর সমর্থকেরা তাড়া করেন তাঁকে। দিল্লির অদূরে শাম্ভু এবং খানাউরিতে কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে স্লোগান দিতে দিতে তাঁরা কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারের মুণ্ডপাত করেন।
হিসারে বিজেপি প্রার্থী ড. কমল গুপ্তা বুধবার রাতে বাদওয়ালি গ্রামে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। গ্রামবাসীরা তাঁরে লক্ষ্য করে জুতো ছুড়ে মারেন। বিজেপি সমর্থকেরা মানববন্ধন গড়ে তোলার পর প্রার্থী ভাষণ শেষ করেন।