
৫২৭ রকম ভারতীয় খাদ্যপণ্যে ক্যানসারের বিষ।
শেষ আপডেট: 27 April 2024 16:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোজই নিজেদের অজান্তেই বিষ ঢুকছে আমাদের শরীরে। আর সেটা ঢুকছে নানারকম খাবারের মাধ্যমে। রান্না খাবার হোক বা কাঁচা, মশলা হোক বা দুগ্ধজাত দ্রব্য, বিষ ছড়িয়েছে অনেক কিছুতেই। একটা সময় ভেজাল খাবার নিয়ে খুব শোরগোল উঠেছিল। আর এখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন নোটিস জারি করে জানিয়েছে, ভারতে তৈরি ৫২৭ রকম খাবার বা খাদ্যদ্রব্যতে এমন রাসায়নিক পাওয়া গেছে যা ক্যানসারের কারণ হতে পারে।
ইইউয়ের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের অন্তত ৫২৭টি খাদ্যবস্তুতে বেশ কিছু ক্ষতিকারক পদার্থ পাওয়া গিয়েছে যা মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এভারেস্ট, এমডিএইচ জাতীয় মশলায় বিষাক্ত ইথিলিন অক্সাইড পাওয়ার পর থেকেই টনক নড়ে। আর কোন কোন খাদ্যদ্রব্য বা মশলায় বিষাক্ত রাসায়নিক আছে তার খোঁজ শুরু হয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের র্যাপিড অ্যালার্ট সিস্টেম ফর ফুড অ্যান্ড ফিড-এর রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, গত প্রায় চার বছরে ভারত থেকে রফতানি করা ৫২৭ ধরনের খাদ্যদ্রব্য, মশলা, দুগ্ধজাত দ্রব্যতে মিলেছে ইথিলিন অক্সাইড নামে এমন একটি জৈব রাসায়নিক যা আদতে কার্সিনোজেনিক।
ইথিলিন অক্সাইড কৃষিকাজে কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বহু দেশেই খাদ্যে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ। সিঙ্গাপুরের খাদ্যসুরক্ষা দফতর প্রথম ভারত থেকে আমদানি করা মশলাতে এই কীটনাশকের উপস্থিতি প্রমাণ করে। তারপরেই ভারতীয় কিছু ব্র্যান্ডের মশলা নিষিদ্ধ হয় সিঙ্গাপুরে। এরপর হংকং-এও একই অভিযোগ ওঠে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই ভারতীয় খাদ্য সামগ্রী নিয়ে পরীক্ষানিরিক্ষা করে ইইউয়ের খাদ্যসুরক্ষা বিভাগ। তার পরই একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়।
কোন কোন খাদ্যদ্রব্যে ধরা পড়েছে ইথিলিন অক্সাইড? মূলত প্যাকেটের বাদাম, তিল, ভেষজ পদার্থ, মশলা, ডায়েটিক ফুড এবং অন্যান্য খাদ্যপণ্যে পাওয়া গেছে এই জৈব পদার্থ। ব্ল্যাকলিস্টেড খাদ্যদ্রব্যগুলির মধ্যে ছিল ৩১৩ রকমের বাদাম ও তিল, ৬০ রকমের ভেষজ পদার্থ ও মশলা, ৪৮ রকমের ডায়েটিক ফুড এবং ৩৪ রকমের অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য। গোলমরিচের মতো সাধারণ মশলা কিংবা অশ্বগন্ধার মতো ভেষজ পদার্থেও মিলেছে ইথিলিন অক্সাইড। ১৯৯১ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইথিলিন অক্সাইডকে ‘জেনোটক্সিক কার্সিনোজেন’ বলে নিষিদ্ধ করার পরেও কেন এতরকম খাদ্যদ্রব্যে এই রাসায়নিক পাওয়া গেল তা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হয়েছে।
খাদ্য সররক্ষণের জন্য প্রিজার্ভেটিভ হিসেবে ইথিলিন অক্সাইডের ব্যবহার এ দেশে বহুদিন ধরেই চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইথিলিন অক্সাইডের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল হওয়ায় খাদ্য সংরক্ষণে এটির ব্যবহার হয় এ দেশে। কিন্তু কোনও খাবারে এই যৌগর ছিটেফোঁটাও থাকলে তা বিষ। ইউরোপে অনেকদিন আগেই এই যৌগের ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু এখানে বিনা বাধায় এমন রাসায়নিকের ব্যবহার হয়ে চলেছে।