
শেষ আপডেট: 13 March 2024 08:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সোমবার দেশ জুড়ে কার্যকর হয়েছে সিএএ। এনিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্র। গত কয়েক মাসে দেশের শাসক দলের একাধিক নেতারা দাবি করেছিলেন, খুব শীঘ্রই সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ কার্যকর হতে চলেছে দেশে। যার প্রতিবাদে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে দিয়েছেন সংখ্যালঘুরা। তবে সত্যি কি মুলসিমদের দুশ্চিন্তার কারণ রয়েছে? বিশেষ করে ভারতে বসবাসকারী মুসলিমদের কী হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এবার সেই সংশয় দূর করতেই ব্যাখ্যা দিল কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-তে মুসলিমদের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়নি। তাদের কোনও সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হবে না। শুধু বাংলাদেশ, পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তানই নয়, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের মুসলিমরাই ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, নাগরিকত্ব আইনের ৬ নম্বর ধারার অধীনে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের মুসলিমরাই ভারতীয় নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। সিএএ চালু হওয়ায় দেশের ১৮ কোটি মুসলিমের উপরেও কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই দাবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের।
এদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই নয়া আইন ধর্মীয় বিভেদ বাড়াবে। তবে সেই অভিযোগ মানতে নারাজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। উল্টে তাঁদের দাবি, ভোটের আবহে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে উস্কে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না, এমনই আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সংসদে সিএএ পাশ হওয়া এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতির পরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ৪ বছর পর গত সোমবার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ কার্যকর করে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যারা ভারতে এসেছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
তবে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আগত ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা, যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈনরাই কেবল নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন, এমন নয়। সেই দেশ থেকে ভারতে আসা মুসলিমরাও নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। একইসঙ্গে এদেশের কোনও নাগরিককে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হবে না বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।