
শেষ আপডেট: 16 December 2023 11:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি আমলা পুত্র। ক্ষমতাশালীর ছেলে হওয়ার সুবাদে তাঁরও ক্ষমতা কিছু কম নাকি! তাই প্রেমিকাকে শাস্তি দিতে ২৬ বছরের তরুণীকে প্রথমে বেধড়ক মারধর করে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করলেন, তারপর গাড়ির চালককে নির্দেশ দিলেন প্রেমিকার উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিতে! ড্রাইভার সেই নির্দেশ পালন করায় তরুণী প্রাণে বাঁচলেও তাঁর অবস্থা এমনই যে আবার কবে তিনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন সন্দেহ!

ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের ঠানের। অভিযুক্ত আমলা পুত্রের নাম অশ্বজিৎ গাইকোয়াড়। তার বাবা অনিল গাইকোয়াড় মহারাষ্ট্র রাজ্য সড়ক উন্নয়ন বিভাগের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। অশ্বজিতের সঙ্গে গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে সম্পর্ক ছিল প্রিয়া সিং নামে এক তরুণীর। প্রিয়া জানিয়েছেন, গত ১১ ডিসেম্বর ভোর পাঁচটা নাগাদ একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁকে ডেকে পাঠায় অশ্বজিৎ। "ওখানে পৌঁছে আমার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে দেখা হয়। তারপর খেয়াল করলাম আমার প্রেমিক কেমন অন্যরকম ব্যবহার করছে। আমি ওকে জিজ্ঞেস করি সবকিছু ঠিক আছে কিনা। তারপর বলি, কিছু হয়ে থাকলে একান্তে কথা বলতে," জানিয়েছেন প্রিয়া।
এরপর অনুষ্ঠানস্থল থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তরুণী। ভেবেছিলেন, সে এলে দুজনে কথা বলে ব্যাপারটা বুঝে নেবেন। কিন্তু একা নয়, কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে এসে প্রিয়ার উপর চড়াও হয় অশ্বজিৎ। প্রিয়া জানিয়েছেন, তাঁকে অবাক করে দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে অশ্বজিৎ অশ্লীল গালাগাল করতে শুরু করেন তাঁকে। তরুণী তার প্রতিবাদ করতেই তাঁর গালে থাপ্পড় কষায় প্রেমিক। তারপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর গলা টিপে ধরে। প্রিয়া ছাড়ানোর চেষ্টা করলে তাঁর হাতে কামড়ে দেয় অভিযুক্ত। শুরু হয় মারধর। চুলের মুঠি ধরে টেনে তরুণীকে মাটিতে ফেলে মারতে শুরু করে ওই আমলা পুত্র ও তার বন্ধুরা।
তরুণী যখন এরপর গাড়ি থেকে তাঁর মোবাইল ও অন্যান্য জিনিসপত্র বের করার চেষ্টা করেন, তখন অশ্বজিৎ তাঁর উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়া নির্দেশ দেয় চালককে। চালক সেই নির্দেশ পালনও করে। গাড়ির ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যান তরুণী। তাঁর পায়ের উপর দিয়ে গাড়ি ছুটিয়ে বেরিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
প্রিয়া জানিয়েছেন, রক্তাক্ত, মরণাপন্ন অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ রাস্তাতেই পড়েছিলেন তিনি। তাঁকে যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখে একটি গাড়ি সেখানে দাঁড়ায়। এরপর স্থানীয়দের সাহায্যে তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন প্রিয়ার ডান পায়ের হাড় ভেঙে একেবারে গুঁড়িয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করে তাঁর পায়ে রড বসানো হয়েছে। এছাড়া তাঁর সারা শরীরে অজস্র ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। হাত, পিঠ এবং পেটের অংশে চোট গুরুতর বলে চালিয়েছেন ডাক্তাররা। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, আপাতত তিন-চার মাস বিছানা থেকে উঠতে পারবেন না প্রিয়া। তারপরেও হাঁটাচলার জন্য অন্তত ৬ মাস অন্যের সাহায্য নিতে হবে তাঁকে।
View this post on Instagram
অভিযোগ, প্রাথমিকভাবে এই ঘটনায় আমলা পুত্রের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগই নিতে চায়নি পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, 'উপরমহলের চাপ' রয়েছে। এরপরে হাসপাতালের বিছানা থেকেই নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে পুরো ঘটনা লিখে নিজের ছবিসহ পোস্ট করেন তরুণী। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর তৎপর হয়েছে পুলিশ। মহারাষ্ট্র পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।