২০১৩ সালে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সমস্যা তৈরি হলেও দ্রুত নতুন ডিজাইন ও সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটি এখন অন্যতম নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য বিমান হিসেবে এতদিন সুপরিচিত ছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 June 2025 14:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আধুনিক বাণিজ্যিক উড়ানের জগতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছিল বোয়িং-এর ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার (Boeing 787-8 Dreamliner)। কিন্তু বৃহস্পতিবার লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এই ড্রিমলাইনার যেভাবে আমদাবাদে ভেঙে পড়ল (Ahmedabad Plane Crash), তাতে অনেকটাই যেন আস্থা টলে গেল।
৭৮৭-৮ বোয়িং ড্রিমলাইনার প্রথম বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করেছিল ২০১১ সালে। এই বিমানটি প্রযুক্তি, যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্য এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের অসাধারণ সমন্বয় ঘটিয়েছে গোড়া থেকে তারিফ কুড়িয়েছে।
বোয়িং ৭৮৭-৮ কোন দিক থেকে আলাদা
সাধারণত ২৪২ যাত্রী বহন করতে সক্ষম (২-ক্লাস লেআউটে)।

প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিপ্লব
কম্পোজিট কাঠামো: বিমানটির প্রায় ৫০% অংশ তৈরি হয়েছে কার্বন ফাইবার কম্পোজিট দিয়ে। ফলে এটি অনেক হালকা ও টেকসই।
‘ব্লিডলেস’ ইলেকট্রিক সিস্টেম: প্রচলিত পদ্ধতির বদলে উন্নত ইলেকট্রিক সিস্টেম ব্যবহারে জ্বালানি সাশ্রয় হয়।
উন্নত ইঞ্জিন: রোলস-রয়েস ট্রেন্ট ১০০০ অথবা জেনারেল ইলেকট্রিকের GEnx-1B ইঞ্জিন ব্যবহৃত হয়।
রেকড উইং টিপস: ডানার বিশেষ ডিজাইন বাতাসে ঘর্ষণ কমায় এবং জ্বালানি খরচ বাঁচায়।
যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য
বায়ু চাপ নিয়ন্ত্রণ: ৬,০০০ ফুটের সমতুল্য কেবিন প্রেসার — ক্লান্তি কমায়।
বেশি আর্দ্রতা: ডিহাইড্রেশন কম হয়।
বিশাল জানালা: সবচেয়ে বড় জানালা, যার গ্লাস টিন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
কেবিন শব্দ অনেক কম: উন্নত শব্দ নিরোধক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।
এলইডি লাইটিং: দীর্ঘ যাত্রায় সময় অনুযায়ী আলো বদলে যাত্রীদের জেটল্যাগ কমায়।
পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক দিক
২০% পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় পুরনো ৭৬৭ মডেলের তুলনায়।
কার্বন নিঃসরণ কমায়।
ছোট শহর থেকে বড় শহরের সরাসরি ফ্লাইটে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
নিরাপত্তা এবং নির্ভরযোগ্যতা
২০১৩ সালে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সমস্যা তৈরি হলেও দ্রুত নতুন ডিজাইন ও সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটি এখন অন্যতম নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য বিমান হিসেবে এতদিন সুপরিচিত ছিল।
যেসব এয়ারলাইন্স ব্যবহার করছে