
শেষ আপডেট: 16 November 2023 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে জনজীবনে অস্থিরতা কমার নাম নেই। গত মাসের ২৮ তারিখের পর বিগত কুড়ি দিন যাবৎ দেশের স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত বিরোধী দল বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে। বৃহস্পতিবার দলটি ফের দু’দিন হরতাল পালনের ডাক দিয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন দেশটির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিয়েছে। ৭ জানুয়ারি দেশটিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। গণনাও শুরু হবে ওইদিনই। আশা করা হয়েছিল, ভোট ঘোষণার পর বিরোধী দল তাদের আন্দোলনের চরিত্র বদল করবে। প্রত্যাশার উল্টো পথে হেঁটে বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঘোষণা করেন তাঁরা রবি ও সোমবার গোটা দেশে হরতাল পালন করবেন।
বুধবার বেশি রাতে দলটি ঘোষণা করে তারা আগের দাবিতেই আন্দোলন চালিয়ে যাবে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে না। নির্বাচন কমিশনের ভোট ঘোষণার বিজ্ঞপ্তিকে দলটি বেআইনি এবং অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছে।
বিএনপি গত ২৮ অক্টোবর সবচেয়ে বড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। প্রায় পাঁচ বছর পর সেদিন তারা গোটা দেশে হরতাল পালন করে। ওই দিন পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। বিরোধী দলের সমর্থকেরা একজন পুলিশ কর্মীকে পিটিয়ে, কুপিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশের মারে এক বিএনপি সমর্থকের মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে সবচেয়ে বড় গোলমালের ঘটনা ঘটে দেশের প্রধান বিচারপতির বাড়ি এবং পুলিশের হাসপাতালে বিক্ষোভকারীদের হামলা।
পরদিন থেকে পুলিশ দফায় দফায় হাজারের বেশি বিএনপি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বিরোধী দল এক দিনের ব্যবধানে দু’দিন ধরে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছিল। বৃহস্পতিবার তারা আবার হরতাল কর্মসূচিতে ফিরে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা বাড়ল। এমনিতেই অবরোধ কর্মসূচির ফলে দেশে নিত্যপণ্যের জোগান কমে গিয়েছে। তার জেরে জিনিসপত্রের দাম আরও চড়েছে। এছাড়া হরতাল ঘিরে অশান্তি, হিংসার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।