
নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 9 February 2025 16:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক্সিট পোলের রিপোর্ট বলছিল, দিল্লিতে উঠতে চলেছে গেরুয়া ঝড়। শনিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা প্রমাণও হয়ে যায়। দীর্ঘ ২৭ বছর পর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফেরার তোড়জোড় শুরু করে দেয় বিজেপি। একাধিক নতুন মুখ থাকলেও কে হবেন দিল্লির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী, সেই নিয়ে চর্চা শুরু হয়। আপ ও গেরুয়া শিবিরের ফল নিয়ে হাজারো আলোচনার মাঝে বার বার ঘুরে ফিরে আসে ২৭ বছরের পুরনো স্মৃতি। সেবার পাঁচ বছরে তিনজন বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে। শেষ বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর মেয়াদ ছিল মোটে ৫২ দিন।
সালটা ১৯৯৩। দিল্লির মসনদ বিজেপির দখলে। প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মদনলাল খুরানা। ক্ষমতায় এসে ভালই কাজ করছিলেন তিনি। কিন্তু 'দিল্লি কা শের' বিপাকে পড়েন ১৯৯৫ সাল। নাম জড়ায় হাওলা কাণ্ডে। ২৭ মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন তিনি। তখনও নির্বাচনের জন্য বাকি অনেকটা সময়। দায়িত্বভার দেওয়া হয় সাহিব সিং ভর্মার ওপর। সিংহাসনে বসেন, কাজ শুরু করেন। কিন্তু সমালোচনা পিছু ছাড়ে না এই মুখ্যমন্ত্রীরও।
৩১ মাস পর পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে একজোট হতে থাকেন বিরোধীরা। সরব হন সাধারণ মানুষও। চাপ বাড়ে। সমালোচনার মুখে পড়ে পদত্যাগ করেন তিনি। তখনও নির্বাচনের বাকি প্রায় দু'মাস। দিল্লির মসনদে এবার কে, সেনিয়ে শুরু হয় জল্পনা। গেরুয়া শিবিরের হাতে থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পরিচিত কার্ডটি খেলে তারা। সিংহাসনে বসানো হয় সুষমা স্বরাজকে। দিল্লির প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, ৫২ দিনের মুখ্যমন্ত্রী।
তারপর শিলা দীক্ষিতের ১৫ বছরের ইনিংস ও কেজরিওয়ালের ক্ষমতায় আসা। আপ সরকার গড়ার পর একাধিক নতুন নিয়ম-নীতি চালু করে। যেভাবে দিল্লিকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা দেখে প্রশংসায় ভরিয়ে দেয় জনগণ। কিন্তু ৫ ফেব্রুয়ারির দুপুরে সেসব 'ভাল কাজ' ভুলে গিয়েই রায় দেয় দিল্লিবাসী। শনিবার তা মাথা পেতে নেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কয়েক মাসের মুখ্যমন্ত্রী আতিশী পদত্যাগ করেন। ফিরে আসে ২৭ বছরের পুরনো ইতিহাস।