
কুলদীপ সিং ঢালিওয়াল
শেষ আপডেট: 22 February 2025 12:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি (Delhi) দখলের পর বিজেপির (BJP) এবার নজর পড়েছে আম আদমি পার্টি (AAP) শাসিত পাঞ্জাবের (Punjab) দিকে। স্বচ্ছতার ঝাড়ুদার পার্টির এক কীর্তিকে কেন্দ্র করে আসর সরগরমে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছে বিজেপি শিবির। কারণ, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান (CM Bhagwant Mann) সরকার ২০ মাস পর আবিষ্কার করল যে, তাদেরই এক মন্ত্রী এমন একটি দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যে দফতরের কোনও অস্তিত্বই নেই। আর তা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে দিল্লিতে আপের ১০ বছরের সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপির মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জেগে উঠেছে।
গতকাল, ২১ ফেব্রুয়ারি পাঞ্জাব সরকার এক গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে স্বীকার করেছে যে, বর্ষীয়ান আপ নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী কুলদীপ সিং ঢালিওয়ালকে প্রদত্ত প্রশাসনিক সংস্কার নামে কোনও দফতরের অস্তিত্বই নেই। যার ফলে ঢালিওয়াল বর্তমানে কেবলমাত্র রাজ্যের অনাবাসী ভারতীয় দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী।ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে রাজ্যপাল আগের মন্ত্রিপরিষদের রদবদলে সম্মতি দিয়েছেন।
ঢালিওয়ালকে প্রথমে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, ২০২৩ সালের মে মাসে মন্ত্রিসভা রদবদলের সময় তা কেড়ে নেওয়া হয়। তাঁর হাতে ছিল এনআরআই বিষয়ক দফতর ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর, যার কোনও অস্তিত্বই নেই বর্তমানে। ২০২৪ সালের ক্যাবিনেট রদবদলের সময়েও তাঁকে এই দফতরের দায়িত্বে রেখেছিল আপ সরকার। সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন বারবার চেষ্টা করেও ঢালিওয়ালের প্রতিক্রিয়া জানতে পারেনি।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্তিত্বহীন ওই দফতরের জন্য মন্ত্রীকে কোনও কর্মী দেওয়া হয়নি, এমনকী এ পর্যন্ত ওই দফতরের কোনও বৈঠকও হয়নি। উল্লেখ্য, ভগবন্ত মন্ত্রিসভায় ঢালিওয়াল হলেন পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রবীণ মন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান, অর্থমন্ত্রী হরপাল চিমা, নতুন ও পুনর্নবীকরণ শক্তি মন্ত্রী আমন অরোরা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ও সশক্তিকরণ মন্ত্রী ডঃ বলজিৎ কৌরের পরেই স্থান ঢালিওয়ালের। সম্প্রতি তাঁর নাম সামনে আসে আমেরিকা ফেরত যাত্রীদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ নিয়ে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য বলেছেন, আপনারা কেউ ভাবতে পারেন, একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী একটি দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন, যে দফতরের সরকারি খাতায় অস্তিত্বই নেই! অরবিন্দ কেজরিওয়াল হলেন একজন প্রতারক, যিনি সাধারণ মানুষের মন থেকে একেবারে উবে যাবেন। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারিও আপ সরকারকে একহাত নিয়ে বলেছেন, আপ সরকার প্রশাসনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। ২০ মাস ধরে এক মন্ত্রী কাজ চালাচ্ছেন, যে দফতরের ঠিকানাই নেই! মুখ্যমন্ত্রী এসবের কিছুই জানেন না, তা হয় নাকি! ভাটিন্ডার এমপি তথা শিরোমণি অকালি দলনেত্রী হরসিমরত কৌর বাদল বলেন, একেই বলে আপ-পাঞ্জাব স্টাইলের শাসন। এখানে আসলে মন্ত্রীর কোনও ভূমিকাই নেই। সবই দিল্লি থেকে রিমোটে কন্ট্রোল করা হয়।