
সেঙ্গল সরিয়ে সংবিধানের কপি রাখার দাবি তুলেছেন সমাজবাদী পার্টি
শেষ আপডেট: 27 June 2024 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৮ তম লোকসভা যাত্রা শুরু করেছে গত সোমবার। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন। এরমধ্যেই সেঙ্গল নিয়ে নয়া বিতর্কের সূচনা হয়েছে। নতুন সংসদ ভবনে স্পিকারের চেয়ারের পাশে রাখা সেঙ্গল সরিয়ে সেখানে সংবিধানের কপি রাখার দাবি তুলেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ সাংসদ আরকে চৌধুরী। উত্তরপ্রদেশের মোহনলালগঞ্জ থেকে নির্বাচিত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আরকে চৌধুরী স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে এই প্রস্তাব দিয়েছেন।
চিঠির কথা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। ইন্ডি জোটের একাধিক শরিক নেতা সমাজবাদী পার্টির সাংসদের প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন। যদিও ওই দলের সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব সরাসরি এই ব্যাপারে মন্তব্য করেননি। তবে দলীয় সাংসদের কথা উড়িয়েও দেননি। অখিলেশ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সেঙ্গলটি নতুন সংসদ ভবনে প্রতিষ্ঠার সময় সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেছিলেন। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনে প্রবেশ করে তা করেননি। প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর ভুলের কথাই আমাদের সাংসদ মনে করিয়ে দিয়েছেন।“
যদিও আরকে চৌধুরী স্পিকারকে লেখা চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন তাঁর আপত্তির কারণ। তিনি বলেছেন, সেঙ্গল রাজতন্ত্রের প্রতীক। ভারত এখন প্রজাতন্ত্র। প্রজাতন্ত্রের প্রধান প্রতীক ও হাতিয়ার হল তার সংবিধান। নতুন সংসদ ভবনের মতো জায়গায় রাজদণ্ড কোনওভাবেই থাকতে পারে না।
প্রবীণ কংগ্রেস সাংসদ বি মণিক্কম টেগর সমাজবাদী পার্টির সাংসদের প্রস্তাবকে পূর্ণ সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, ভারতের আইনসভায় কোনও ভাবেই সেঙ্গল থাকতে পারে না। আমরা জনগণের প্রতিনিধি। সংবিধানই আমাদের মূল শক্তি। আরকে চৌধুরীকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন আরজেডির রাজ্যসভার সাংসদ তথা লালুপ্রসাদ যাদবের কন্যা মিসা ভারতীও।
প্রসঙ্গত, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সংসদে শপথ নিয়েছেন হাতে সংবিধানের কপি নিয়ে। সংসদ ভবনের বাইরে সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময়ও বিরোধী সাংসদদের হাতেও সংবিধানের কপি ছিল।
এই পরিস্থিতিতে সেঙ্গল বিতর্ক ডিএমকে’র কোর্টে ঠেলে দিয়েছে বিজেপি। শাসক দলের বক্তব্য, এই ব্যাপারে আগে ডিএমকে এবং তাদের নেতা এমকে স্ট্যালিন দলের এবং নিজের অবস্থান স্পষ্ট করুন।
প্রসঙ্গত, গত বছর গণেশ চতুর্থীর দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংসদে সেঙ্গল প্রতিষ্ঠা করেন। সেটি তামিলনাড়ুর একটি মন্দিরে রাখা ছিল। প্রাচীন কালে চোল রাজারা ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতীক হিসাবে ধাতুর তৈরি রাজদণ্ড ব্যবহার করতেন, তামিল ভাষায় যেটিকে সেঙ্গল বলা হয়ে থাকে। নতুন সংসদ ভবনে সেটি প্রতিষ্ঠার আগে তামিল পুরোহিতেরা পূজা করে প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতে তুলে দেন। বিজেপি তামিলনাড়ুর শাসক দল ডিএমকে’র কোর্টে সেঙ্গল বিতর্ক ঠেলে দিয়ে ইন্ডি জোটকে অস্বস্তিতে ফেলার কৌশল নিয়েছে।