সমালোচনা আছড়ে পড়ছে সমাজ মাধ্যমেও। বিজয়বর্গীয়ের মন্তব্যে অনেকেই পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে আর আফগানিস্তান, পাকিস্তানের সঙ্গে হিন্দুস্তানের ফারাক থাকছে কই?

সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 27 October 2025 10:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বমহিমায় বিজেপি নেতা তথা মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়। বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য বিখ্যাত কৈলাস এবার যৌন লাঞ্ছিত অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটারদের দোষারোপ করে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সমালোচনা আছড়ে পড়ছে সমাজ মাধ্যমেও। বিজয়বর্গীয়ের মন্তব্যে অনেকেই পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে আর আফগানিস্তান, পাকিস্তানের সঙ্গে হিন্দুস্তানের ফারাক থাকছে কই?
একদিনের ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার মহিলা ক্রিকেট টিম এখন মধ্যপ্রদেশের বাণিজ্য শহর ইন্দোরে রয়েছে। সেখানেই গত শুক্রবার দুই অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটার হোটেল থেকে বেরিয়ে কাছাকাছি একটি ক্যাফেতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় এক তরুণ মোটরবাইক নিয়ে তাঁদের পিছনে এবং উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে ধাক্কা দিয়ে পালায়। পরে সিসিটিভির ফুটেজ এবং এক পথচারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই তরুণকে গ্রেফতার করে।
এই ঘটনায় বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য এই ঘটনায় গোটা বিশ্বের কাছে দেশের সম্মানহানি হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে বিদেশি খেলোয়াড়রা হয়তো নিজেদের নিরাপত্তা বাহিনী সঙ্গে নিয়ে সফরে আসবে।
স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পে বিগত বহু বছর ধরে ইন্দোর দেশের পরিছন্নতম শহরের মর্যাদা পেয়ে আসে। বিরোধীদের বক্তব্য, সেই শহরের দিনের বেলা দেশি বা বিদেশি যিনিই হোন না কেন, এই ধরনের লাঞ্ছনার ঘটনা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিরোধীদের লাগাতার সমালোচনার মুখে মধ্যপ্রদেশের প্রবীন মন্ত্রী বিজয়বর্গীয় পাল্টা লাঞ্ছিত ক্রিকেটারদের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ওই ক্রিকেটারদের উচিত ছিল বাইরে বেরনোর আগে হোটেল কর্তৃপক্ষ কিংবা টিম ম্যানেজারকে জানিয়ে যাওয়া। তাহলে তাঁদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজনকে দেওয়া যেতে পারত।
মন্ত্রীর এই মন্তব্যে বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি ইন্দোরবাসীও বিরক্ত। বক্তব্য, শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেন এই পর্যায়ে গেল যে দুজন বিদেশি নারীকে প্রকাশ্য রাস্তায় লাঞ্চিত করার সাহস পায় দুষ্কৃতীরা। মন্ত্রী সরকারের ব্যর্থতাকে আড়াল করতে লাঞ্ছিত ক্রিকেটারদের দুষছেন। এতে দেশের ভাবমূর্তি আরও বিপন্ন হচ্ছে। বিজয়বর্গীয় অবশ্য নিজের বক্তব্য থেকে সরেন নি। সূত্রের খবর মন্ত্রীর ওই বক্তব্য নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বও অসন্তুষ্ট। বিজয়বর্গীয় দলের প্রবীণ নেতা এবং জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য। তার মতো নেতার মুখে এই ধরনের ব্যাখ্যা এবং ঘটনাটিকে লঘু করে দেখার প্রচেষ্টাকে দলের অনেকেই মনে করছেন।