
রাম মন্দির ও আচার্য সত্যেন্দ্র সিং
শেষ আপডেট: 12 June 2024 20:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভায় এবার বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো, তাদের হিন্দুত্বের গর্ভগৃহ উত্তরপ্রদেশে অর্ধেক আসন হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি ওই রাজ্যের ফৈজাবাদে হেরে যাওয়ার খবরও গোটা দেশের নজর কেড়েছে। প্রাচীন জনপদ ফৈজাবাদ লোকসভা আসনের সাতটি আসনের একটি বিধানসভা হল অযোধ্যা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যেখানে গড়ে উঠেছে রাম মন্দির। এ বছর ২২ জানুয়ারি থেকে যেখানে পূণ্যার্থীর স্রোত চলছেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে মন্দির উদ্বোধন এবং শিশু রাম বা রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার সময় অযোধ্যায় বিশ-বাইশ লাখের সমাগম হয়েছিল। এখনও প্রতিদিন কয়েক লাখ পূণ্যার্থী মন্দির দর্শনে হাজির হচ্ছেন। আর এর পুরো কৃতিত্বই দাবি করে আসছে বিজেপি।
সেই ফৈজাবাদে পদ্ম শিবিরের প্রার্থী আগের দু’বারের সাংসদ লাল্লু সিংহের হার নিয়ে বিজেপি নেতা-সহ গোটা গেরুয়া শিবির মুখ লুকোতে ব্যস্ত। নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণের পৈতে হারানোর মতো অবস্থা পদ্ম শিবিরের। হারের কারণ, এতদিনে অবশ্য অজানা নেই। রাম মন্দিরকে ঘিরে নব অযোধ্যা তৈরির যে নির্মাণযজ্ঞ শুরু হয়েছে, তার জেরে দেদার উচ্ছেদ অভিযানের ফলে জনরোষ আছড়ে পড়েছে ইভিএমে, প্রকাশ্যেই বলেছেন এলাকাবাসী।
তাতে গলা মেলালেন রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিত আচার্য সত্যেন্দ্র সিং। বুধবার ‘দ্য ওয়াল’কে টেলিফোনে তিনি বলেন, রাম মন্দিরকে নিয়ে অহংকারই বিজেপির পতনের কারণ। তিনি বলেন, ‘বিজেপির প্রার্থী তথা দু’বারের সাংসদ লাল্লু সিং সহ অযোধ্যার নেতারা ভেবেছিলেন রাম মন্দির তৈরি হয়ে গেছে। বাইরে থেকে হাজার হাজার মানুষ আসছেন। এমন এক মন্দির নির্মাণের কৃতিত্ব ভোটের বাক্সে তাদের প্রাপ্য। কিন্তু অযোধ্যার রামভক্তেরা তাদের উচিত শিক্ষা দিয়েছে।’ তাঁর কথায়, ‘অযোধ্যার নির্মাণ কাজ নিয়ে এলাকার বিপুল অংশের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল যা ভোটের ফলে প্রতিফলিত হয়েছে।’
অযোধ্যায় যে নির্মাণ কাজ হচ্ছে তার মধ্য মন্দির পরিসরের বাইরে অন্যতম প্রকল্প হল রামপথ তৈরি। ফৈজাবাদ থেকে সরযূ নদীর পাড় ঘেঁষে তৈরি হওয়া সেই রাস্তা রাম মন্দিরের মুখে এসে শেষ হয়েছে। সেই রাস্তা চওড়া করার জন্য দু-পাশের অসংখ্য ঘরবাড়ি, দোকান, হোটেল, অতিথিশালা, ধর্মশালা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন।
মন্দিরের প্রধান পুরোহিত সত্যেন্দ্র সিংয়ের মতে, রামপথ জরুরি ছিল। কিন্তু কারও সঙ্গে কথা না বলে রাতারাতি সব ভেঙে মানুষকে পথে বসিয়ে দিয়ে অন্যায় করেছে প্রশাসন। মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের উপযুক্ত বাসস্থান, আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। কিন্তু বিজেপির স্থানীয় সাংসদ একবারের জন্য ক্ষুব্ধ মানুষের সঙ্গে কথা বলেননি। তাদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেননি। জনপ্রতিনিধি হিসাবে তাঁরই প্রধান কর্তব্য ছিল মানুষের ক্ষোভের কথা সরকারের উচ্চতম মহলকে জানানো। মহন্তের কথায়, ‘সাংসদ সহ বিজেপি নেতারা মনে করেছিলেন, রাম মন্দির হয়ে গেছে। তাদের কেউ হারাতে পারবে না। মানুষ রামের নামে তাঁদের ভোট দেবে।’
উত্তর প্রদেশের পাশাপাশি গোটা দেশেই বিজেপির ফল এবার খারাপ হয়েছে। রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের কথায়, তীব্র বেকারি, জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্য দেশের বাকি অংশে বিজেপির খারাপ ফলের অন্যতম কারণ। তিনি আরও মনে করেন, ‘নরেন্দ্র মোদী ফের প্রধানমন্ত্রী হলে সংবিধান বদলে দেবেন, বিরোধীদের এই প্রচার মানুষ বিশ্বাস করেছে।’
তবে রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের মতে, বিজেপির খারাপ ফলের জন্য নরেন্দ্র মোদীকে দায়ী করা চলে না। বরং বিজেপি যে ২৪০টি আসন পেয়েছে তা নরেন্দ্র মোদী ছিলেন বলেই সম্ভব হয়েছে। মোদী না থাকলে বিজেপির ফল আরও খারাপ হত।