
পিনারাই বিজয়ন
শেষ আপডেট: 27 March 2024 15:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরএসএস, বিজেপি নেতারা কথায় কথায় মুসলিমদের পাকিস্তানে চলে যাওয়ার হুমকি দেন। তাঁরা কী জানেন, 'ভারতমাতা কী জয়' স্লোগান প্রথম দিয়েছিলেন একজন মুসলিম। আরএসএস, বিজেপি নেতারা এই সত্য জানার পর ভারতমাতা কী জয় বলা বন্ধ করে দেবেন কি?
দু'দিন আগে উত্তর কেরলের মাল্লাপুরমে দলের 'দেশ বাঁচাও' সমাবেশে এই কথা বলেছিলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী তথা দলের পলিটব্যুরোর সদস্য পিনারাই বিজয়ন। ওই সভাতেই বলেছিলেন, 'জয়হিন্দ' কথাটিও একজন মুসলিমের কণ্ঠে প্রথম শোনা গিয়েছিল।
বিজয়নের ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশ ঠুকেছে বিজেপি। কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির আর্জি জানিয়েছে তারা। যদিও বিজয়ন ভাষণে যে কথা দাবি করেছেন বিজেপি সেই ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেনি। পদ্ম শিবিরের বক্তব্য, বিজয়ন সাম্প্রদায়িক বিভাজনের উদ্দেশে ওই মন্তব্য করেছেন।
লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে রাজ্য সফরে বেরিয়েছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। রাজ্যের উত্তর প্রান্তের মুসলিম বহুল আসনগুলিতে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। সোমবার উত্তর কেরলের মাল্লাপুরমের সভায় কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ‘ভারতমাতা কি জয়’ ধ্বনী সম্পর্কে বলেন, আরএসএস, বিজেপি নেতারা কি জানেন, এই স্লোগান প্রথম দিয়েছিলেন এক মুসলিম। তাঁর নাম আজিমুল্লা খান।
কে তিনি?১৮৫৭-র মহা বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক আজিমুল্লা খান স্লোগান দেন, 'মাদার এ ওয়াতন ভারত কী জয়'।
তাঁর জন্ম কানপুরে। মহাবিদ্রোহে যোগদান করে মাত্র ২৯ বছর বয়সে মারা যান তিনি। ইতিহাসবিদদের মতে, দ্বিতীয় পেশওয়া বাজিরাওয়ের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারী নানা সাহিবের পেনশন বন্ধ করে দেয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ব্রিটিশ সরকারের কাছে নালিশ ঠুকতে নানা সাহিব লন্ডনে পাঠান আজিমুল্লা খানকে। তাঁর চেষ্টা ব্যর্থ হলে দেশে ফিরে তিনি নানা সাহিবকে বিদ্রোহ করার পরামর্শ দেন। নানা সাহিব সেনাপতি নিয়োগ করেন আজিমুল্লা খানকেই।
অন্যদিকে, জয়হিন্দ শব্দ প্রথম উচ্চারণ করা আবিদ হাসান ছিলেন একজন কূটনীতিক।
দিল্লিতে বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদীর বক্তব্য, বিজয়ন সাম্প্রদায়িক বিভাজনের লক্ষ্যে ইতিহাসকে ব্যবহার করছেন। যদিও ভারত মাতা কি জয় এবং জয়হিন্দ স্লোগান নিয়ে বিজয়নের বক্তব্য পাশ কাটিয়ে গিয়েছেন বিজেপির মুখপাত্র।
গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে মুসলিম বিদ্বেষের অভিযোগ তুলে বিজয়ন সেদিনের সভায় আরও বলেন, যেহেতু স্লোগানটি প্রথম একজন মুসলিমের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল তাই জানতে চাই সঙ্ঘ পরিবার, বিজেপির নেতারা ‘ভারত মাতা কী জয়’ বলা কি বন্ধ করে দেবেন?
মাল্লাপুরমের জনসভায় কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন তুলেছিলেন, মুসলিমের কণ্ঠে প্রথম উচ্চারিত জয়হিন্দ কথাটিও কি আরএসএস নেতারা বলা বন্ধ করে দিতে পারবেন।
তাঁর বক্তব্য, মুসলিমরা এ দেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-প্রযুক্তিতে যে অবদান রেখেছে সঙ্ঘ পরিবার তা মানতে চায় না। স্বাধীনতার লড়াইয়েও সংখ্যালঘুদের অবদান ভোলার নয়।
কেরল সিপিএম লোকসভা ভোটের প্রচারের পাশাপাশি সিএএ বিরোধী বড় সমাবেশ করারও পরিকল্পনা নিয়েছে। তামিলনাড়ুর মতো কেরল সরকারও ঘোষণা করেছে রাজ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন চালু করা হবে না।
ওই আইনের বিরুদ্ধে রাজ্যের চার প্রান্তে চারটি মেগা সমাবেশের আয়োজন করছে দল। তার একটিতে সোমবার বিজয়ন বলেন, উপনিষদকে ফারসিতে অনুবাদের ব্যবস্থা করেছিলেন মোঘল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র দারা শিকোহ। অথচ সঙ্ঘ পরিবার ও বিজেপি নেতারা কথায় কথায় মুসলিমদের পাকিস্তান চলে যেতে বলেন।