
রাহুল গান্ধী ও ইলহান ওমর।
শেষ আপডেট: 11 September 2024 12:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকা সফররত বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে ফের নিশানা বিজেপির। প্রবল ভারত-বিরোধী তথা পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ বলে দাবি করা মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটিক সদস্য ইলহান ওমরের সঙ্গে রাহুলের সাক্ষাৎ নিয়ে তেলেবেগুনে জ্বলছে বিজেপি। বুধবার সকালেই বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক এক্সবার্তায় ব্যাপক নিন্দা করেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুলের।
মালব্যর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী পাকিস্তানি মদতপুষ্ট ভারত-বিরোধী মার্কিন নেত্রী ইলহান ওমরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তাঁদের আমেরিকায় একটি অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখাও গিয়েছে। অমিতের কথায়, ভারতের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী আমেরিকায় ইলহান ওমরের সঙ্গে দেখা করেছেন। ওমর হলেন পাকিস্তানি মদতপুষ্ট ভারত-বিরোধী কণ্ঠ। তিনি একজন কট্টরপন্থী ইসলামি এবং আজাদ কাশ্মীরের সমর্থক। শুধু তাই নয়, ওমরের বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থন করার বিতর্কও রয়েছে সেদেশে।
অমিত মালব্যের আরও অভিযোগ, পাকিস্তানি নেতারাও ইদানীং উগ্রপন্থীদের সঙ্গে যোগসাজশের ব্যাপারে সতর্কভাবে পা ফেলে চলছেন। সেখানে কংগ্রেস ভারতের বিরুদ্ধে কাজ করে চলেছে। প্রসঙ্গত, ইলহান ওমরকে নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটিক সদস্য ইলহান মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য। ১৯৯১ সালে সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় তিনি পরিবারসহ পালিয়ে যান। কেনিয়ার উদ্বাস্তু শিবিরে চার বছর ছিলেন। সেখান থেকে ১৯৯৫ সালে আমেরিকায় চলে আসেন।
মার্কিন কংগ্রেসে তিনি প্রথম সোমালি-আমেরিকান সদস্য। বিভিন্ন সময় ভারত বিরোধী বক্তব্য, পাকপন্থী মন্তব্যের জন্য বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। ২০২২ সালে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আসায় ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনার ঝাপটা এসে পড়েছিল তাঁর ঘাড়ে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে বিদেশ বিষয়ক কমিটি থেকে ইলহানকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ইজরায়েল ও ইহুদি বিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ ছিল।
২০২২ সালের জুনে মার্কিন জনপ্রতিনিধিসভায় ওমর একটি প্রস্তাবও আনেন। যেখানে তিনি ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছিলেন। সেখানে তিনি এদেশে মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, দলিত, আদিবাসী ও অন্যান্য ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব করার অভিযোগ এনে প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। সেই ওমরের সঙ্গে একসঙ্গে তোলা রাহুলের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিজেপি কোমর বেঁধে সমালোচনায় নেমেছে।