
শেষ আপডেট: 19 January 2024 14:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কারও ছেলের বিয়ে, কারোর জমিতে ফসল পড়ে। এমনই একাধিক 'অজুহাতে' জেলে ফিরতে সময় চেয়েছিলেন বিলকিস বানোর সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন। বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণের জন্য সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা। শুক্রবার সেই আবেদনই খারিজ হয়ে গিয়েছে। দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বিলকিস বানো ধর্ষণকাণ্ডের ১১ জন সাজাপ্রাপ্তকে আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে জেলে ফিরতে হবে।
সংশ্লিষ্ট মামলাটিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগরত্না নেতৃত্বধীন বেঞ্চের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, আসামিদের আবেদনে কোনও সারবত্তা নেই, ফলে তাদের প্রত্যেককে রবিবারের মধ্যে জেলে ফিরতেই হবে।
গত বছর স্বাধীনতা দিবসে বিলকিসের অভিযুক্তদের সময়ের আগেই মুক্তি দেয় গুজরাত সরকার। এরপরই বিলকিসের তরফে ফের মামলা দায়ের হয়। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি গুজরাত সরকারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট। সঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিলকিসের ধর্ষকদের জেলে ফিরতে নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলেন বিলকিস বানো।
দু’সপ্তাহ পূর্ণ না হলেও এখনও পর্যন্ত বিলকিসের ধর্ষকদের একজনও থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেননি। উল্টে স্থানীয় সূত্রের খবর, অধিকাংশের বাড়িতে ঝুলছে তালা। এমনকী পরিবারের কেউ তাদের খবর দিতে পারেননি। সেই আবহেই আত্মসমর্পণের জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে ১১ জনের মধ্যে বৃহস্পতিবার সাত জন শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন।
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে গোধরা দাঙ্গায় বিলকিস বানোকে গণধর্ষণ ও তাঁর পরিবারকে হত্যার অপরাধে ১১ জন অভিযুক্তের যাবজ্জীবন সাজা হয়। কিন্তু ২০২২ সালের স্বাধীনতা দিবসের দিন গুজরাত সরকার তাদের মেয়াদের আগেই মুক্তি দেওয়ায় সারা দেশ জুড়ে নিন্দার ঝড় বইতে থাকে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিলকিস বানোর তরফে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। শীর্ষ আদালত গুজরাত সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করে সাজাপ্রাপ্তদের ফের হাজতবাসের নির্দেশ দেয়।