
শেষ আপডেট: 9 January 2024 10:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিলকিস বানো গণধর্ষণের মামলায় আগাম মুক্তি পেয়েছিলেন ১১ জন সাজাপ্রাপ্ত। সোমবার সেই রায় খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফের জেলে ফিরতে হবে অপরাধীদের। শীর্ষ আদালতের এই রায়ে দেড় বছর পর স্বস্তির নি:শ্বাস ফেললেন বিলকিস বানো।
এদিনের রায়ের পর বিলকিস বানো বলেন, 'আজ আমার জন্য সত্যিকারের নববর্ষ। ন্যায়বিচার একেই বলে৷ আমাকে, আমার সন্তানদের এবং সব নারীদের ন্যায়বিচারের বিশ্বাস এবং ভরসা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ জানাই৷'
অপরাধীদের আগাম জামিন দেওয়ার প্রেক্ষিতে গুজরাট সরকারকে এদিন তীব্র ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট। মেয়াদ ফুরনোর আগেই যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কীভাবে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে সে নিয়ে প্রশ্নও তোলে শীর্ষ আদালত। । নিজের আইনজীবী সোভা গুপ্তার মাধ্যমে বিবৃতিতে এই রায় নিয়ে বিলকিস বানো বলেন, 'এই রায় শুনে আমি স্বস্তিতে কেঁদে ফেলেছিলাম। গত দেড় বছরে এই প্রথমবার হাসলাম৷। আমি আমার সন্তানদের জড়িয়ে ধরেছি। মনে হচ্ছে, আমার বুকের থেকে এক বিশাল বড় পাহাড় নেমে গিয়েছে। আমি আবারও নিশ্বাস নিতে পারছি।'
বিলকিস জানিয়েছেন, ২০২২ সালের ১৫ অগাস্ট যখন গুজরাত সরকার অপরাধীদের মুক্তি দেয়, সেই খবরে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি৷ এই কঠিন সময়ে যাঁরা তাঁর পাশে ছিলেন,তাঁদের উদ্দেশ্যেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার লড়াইয়ের ইচ্ছে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, শুধু আমার জন্য নয়, দেশের প্রত্যেক নারী যে ন্যায়বিচার পাবেন, সেই ভরসাও ফের প্রতিষ্ঠিত হল৷’
গুজরাত হিংসার সময় ২০০২ সালে বিলকিস বানোকে গণধর্ষণ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ১১ জনকে মুক্তি দিয়েছিল গুজরাত সরকার৷ সোমবার সেই নির্দেশ খারিজ করে ওই ১১ জন সাজাপ্রাপ্তকে ফের জেলে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ ২০২২ সালের ১৫ অগাস্ট মুক্তি পেয়েছিল ওই সাজাপ্রাপ্তরা৷ রায় অনুযায়ী, অপরাধীদের আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে। শীর্ষ আদালতের রায়ের পর বিলকিসের চোখ ভরে যায় আনন্দ অশ্রুতে।