
শেষ আপডেট: 18 January 2024 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের রায় আসার পর বিলকিস বানো দীর্ঘ সময় পর স্বস্তি পেয়েছিলেন। গণধর্ষণ মামলায় ১১ জন সাজাপ্রাপ্তর আগাম মুক্তি পাওয়ার সিদ্ধান্ত খারিজ করেছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, তাদের সকলকে ফেরত যেতে হবে জেলেই। কিন্তু জানা গেল সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩ জন এখনই জেলে যেতে না চেয়ে আবেদন করেছে সুপ্রিম কোর্টে।
এই মামলায় অপরাধীদের আগাম জামিন দেওয়ার প্রেক্ষিতে গুজরাত সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তাদের কীভাবে আগাম মুক্তি দেওয়া হয়েছিল সে নিয়ে প্রশ্নও তোলা হয়। এখন ওই সাজাপ্রাপ্তদের ৩ জন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে জানিয়েছে তাদের যেন জেলে ফেরত যাওয়ার দিন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়। তাদের বক্তব্য, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তারাই। তাই তাদের যেন আরও ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়।
বিলকিস বানো গণধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গুজরাত সরকার। তাদের ২০২২ সালে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বিলকিস বানো শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত রায় দেওয়ার পর ১১ জন আসামিকেই আগামী রবিবারের মধ্যে জেলে ফেরত যেতে হবে।
আবেদনকারী সাজাপ্রাপ্তদের আইনজীবী বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নগরথানার বেঞ্চে এই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। সেই আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। শুক্রবারই সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা এই আবেদন করেছে তারা হল গোবিন্দভাই, রমেশ চন্দনা এবং মিতেশ ভাট। গোবিন্দভাইয়ের আবেদন বৃদ্ধ বাবা-মার দেখভালের জন্য তাকে সময় দেওয়া হোক, রমেশের বক্তব্য ছেলের বিয়ের জন্য সময় চাই।
২০০২ সালে গুজরাত হিংসার সময় বিলকিস বানোকে গণধর্ষণ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ১১ জনকে মুক্তি দিয়েছিল গুজরাত সরকার। ২০২২ সালের ১৫ অগাস্ট মুক্তি পেয়েছিল ওই সাজাপ্রাপ্তরা। সরকারি তরফে জানানো হয়, জেলে ওই ১১ অপরাধীর ব্যবহার দেখেই তাদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি শেষ পর্যন্ত বাতিল করে দেয়।