
শেষ আপডেট: 9 December 2023 20:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাল মতো গুঁড়ো গুঁড়ো কী যেন একটা উড়ে এসেছিল। চোখে ঢুকতেই যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিল ২০ বছরের তরুণ। সেই সুযোগেই তাকে হিড়হিড় করে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে প্রকাশ্যে ছুরি দিয়ে কোপাতে শুরু করেছিল আততায়ী। অন্তত ৩০টা কোপ, তারপর সব শেষ। ভয়াবহ সেই হত্যাকাণ্ড দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন পথচারীরা। সদ্য সাবালক হওয়া তরুণ ততক্ষণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।
বিহারের নওয়াদা জেলার হাড়হিম সেই হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। মৃত তরুণের নাম রাহুল কুমার। কুড়ি বছরের রাহুল শিব নগর এলাকার বাসিন্দা। তবে সেখানে সে থাকত না। পড়াশোনার জন্য বারাণসীতে থাকত রাহুল। সম্প্রতি ছটপুজো উপলক্ষে বাড়ি ফিরেছিল সে। তারপর রয়ে গিয়েছিল সেখানেই। কিন্তু ফেরা আর হল না। তার আগেই খুন হতে হল তাকে।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আততায়ী এসে প্রথমে রাহুলের চোখে লঙ্কাগুঁড়ো ছিটিয়ে দেয়। স্বভাবতই যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে রাস্তায় পড়ে যান তরুণ। সেই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিল আততায়ী। সকলের চোখের সামনে দিয়ে রাহুলকে টানতে টানতে সে নিয়ে যায় রাস্তার একপাশে। তারপর ছুরি বের করে কোপাতে শুরু করে।
একবার দুবার নয়। সুতীব্র আক্রোশে অন্তত ৩০ বার রাহুলকে কোপায় সে। পথচারীরা দাঁড়িয়ে সে দৃশ্য দেখলেও আতঙ্কে কেউ তরুণকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি। পরের পর আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রাহুলের। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও অ্যাম্বুলেন্স কিংবা পুলিশের গাড়ি পাওয়া যায়নি তখন। পরে একটি ই-রিকশায় চাপিয়ে মৃত তরুণের দেহ অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ স্ক্যান করে মধ্যবয়সি এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। নওয়াদা থানার ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ অজয় প্রসাদ জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বয়স আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ এর মধ্যে। তিনি আরও জানিয়েছেন, রাহুলের মা মুঙ্গেরের একটি জেলের কর্মী। ঘটনার দিন একটি ফোন এসেছিল রাহুলের কাছে। তারপরেই নাকি তিনি হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে যান। সেই যাওয়াই শেষ যাওয়া ছিল।
কে, কী কারণে রাহুলকে এভাবে নৃশংসভাবে খুন করল তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর কোনও শত্রু ছিল কিনা সে ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। ইতিমধ্যে নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।