বিহার বিজেপির এই অশান্তির মূলে আছেন জন সুরাজ পার্টির প্রধান তথা ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর। তিনি সম্প্রতি উপ মুখ্যমন্ত্রী ও প্রদেশ বিজেপির সভাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 September 2025 10:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের (Bihar Assembly election) ঘণ্টা বেজে গিয়েছে অনেক আগেই। পুজা মিটতেই ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করে দেবে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) । এমন সময় ঘরোয়া বিবাদে জেরবার বিহার বিজেপি। দলের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী (BJP leader and Dy CM Samrat Choudhury) এবং রাজ্য সভাপতি দিলীপ জয়সওয়ালকে (Bihar BJP President Dilip Jaiswal) নিয়ে দলে তুমুল অশান্তি শুরু হয়েছে। দু’জনকেই সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে দলে। এই ব্যাপারে সবচেয়ে সরব প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরকে সিং প্রকাশ্যেই সরব হয়েছেন। জানা যাচ্ছে, নরেন্দ্র মোদী জমানার একদা স্বরাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করা আরকে সিং (RK Singh, former Central minister and home secretary) রীতিমতো নথিপত্র সংগ্রহ করে ময়দানে নেমেছেন।
বিহার বিজেপির এই অশান্তির মূলে আছেন জন সুরাজ পার্টির প্রধান তথা ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর। তিনি সম্প্রতি উপ মুখ্যমন্ত্রী ও প্রদেশ বিজেপির সভাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। প্রশান্তের দাবি, উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ক্লাস সেভেন পাশ। তাঁর মতো মানুষ উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এতে রাজ্যের, রাজ্যের মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রদেশ বিজেপি সভাপতির বিরুদ্ধে প্রশান্ত দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পাশাপাশি একটি সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান পরিচালিত মেডিক্যাল কলেজ দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সম্রাট চৌধুরীকে প্রশান্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন সাহস থাকে তো সার্টিফিকেট দেখিয়ে জানান আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা। সম্রাট রা কাড়ছেন না। নীরবতার রাস্তা নিয়েছেন দিলীপ জয়সওয়ালও।
জানা যাচ্ছে, দুই নেতার বিরুদ্ধে প্রশান্তের অভিযোগ ঘিরে তুমুল অশান্ত তৈরি হয়েছে বিজেপির অন্দরে। ২০২৪ এবং ২০১৯-এ পাটনার অদূরে আরা কেন্দ্র থেকে লোকসভার এমপি হন সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব আরকে সিং। ২০২৪-এর ভোটে তিনি হেরে যান। তারপর থেকেই দলে কোণঠাসা সিং হালে সক্রিয় হয়েছেন প্রশান্তের অভিযোগ হাতিয়ার করে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের খবর, প্রশান্তের সঙ্গে বিহার বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছে। তাঁর জন সুরাজ পার্টি গড়া নিয়ে বিজেপি বারে বারে প্রশ্ন তুলেছে। পদ্ম শিবিরের নেতারা বলে থাকেন, নীতীশ কুমারের কথায় দল গড়েছেন প্রশান্ত। নীতীশই তাঁকে টাকা-পয়সা জোগাচ্ছে। তাঁর উদ্দেশ্য দুটি। জেডিইউ-এর জন্য কঠিন আসনগুলিতে তাঁর দলের প্রার্থীরা নীতীশ বিরোধী ভোটে ভাগ বসিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পার্টির প্রার্থীদের জয়ের রাস্তা তৈরি করে দেবেন। অন্যদিকে, বিজেপির আসনগুলিতে পদ্ম শিবিরের ভোটে ভাগ বসানোই ভোট কুশলীর লক্ষ্য।
বিহারে এনডিএ-তে এমনীতেই অশান্তি চরমে। লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-এর নেতা চিরাগ পাসোয়ান ৪০টি আসন চেয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। তাঁকে চাহিদা মতো আসন না দিলে তিনি এনডিএ শরিকদের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চিরাগ। তাতে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় আছে নীতীশ কুমারের দল। আবার নীতীশ কুমার দাবি করেছেন, বিজেপি বড় শরিক দল হলেও বিধানসভা ভোটে সবচেয়ে বেশি আসন জেডিইউ-কে দিতে হবে। গোটা রাজ্য যখ নররাত্রির উৎসবে মেতে তখন নেতারা আসন বোঝাপড়া নিয়ে তুমুল ব্যস্ত।
এরই মধ্যে বিজেপির ঘরোয়া অশান্তি প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আরকে সিং-সহ একাধিক নেতা মনে করেন, সম্রাট চৌধুরী, দিলীপ জয়সওয়ালদের মতো নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তারা প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা না দিলে ভোটের বাক্সে তার প্রভাব পড়বে। বিহারে বিজেপি একদিন ক্লিন পার্টি হিসাবে নিজেদের তুলে ধরে বিধানসভায় বৃহত্তম দল হয়েছে। এখন সে্ই দলে দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দল হাত গুটিয়ে বসে থাকলে নির্বাচনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া এড়ানো কঠিন।