
সুশীল সিঙ্ঘানিয়া এবং অতুল সুভাষ
শেষ আপডেট: 12 December 2024 10:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৪ পাতার সুইসাইড নোট লিখে এবং ৮১ মিনিটের ভিডিও করে আত্মহত্যা করেছেন বেঙ্গালুরুর ইঞ্জিনিয়ার অতুল সুভাষ। শেষ লেখা চিঠিতে পরতে পরতে স্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে গেছেন তিনি। মিথ্যে খুনের মামলায় ফাঁসানো থেকে শুরু করে, ছেলের নাম করে টাকা চাওয়ায় মতো অভিযোগ, সবই রয়েছে তাতে। কিন্তু অতুলের শ্বশুরবাড়ির তরফে দাবি করা হয়েছে, এইসব অভিযোগই মিথ্যে।
বেঙ্গালুরুর এই ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে দেশজুড়ে। ইতিমধ্যে অতুলের স্ত্রী নিকিতা, শাশুড়ি, শ্যালক, কাকা সহ পরিবারের একাধিক সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। এই অবস্থায় সর্বপ্রথম এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন নিকিতার কাকা। তিনি স্পষ্ট করে বলছেন, অতুল যে সমস্ত অভিযোগ তুলেছে তা সব ভুল। সবকিছুর জবাব আছে তাঁর স্ত্রী নিকিতার কাছে।
নিকিতার কাকার বিরুদ্ধেও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করে গেছেন অতুল। তবে সংবাদমাধ্যমে সুশীল সিঙ্ঘানিয়া জানান, ''মিডিয়া থেকেই এই খবরের কথা জানতে পেরেছি আমি। কিন্তু গোটা ঘটনার সঙ্গে আমার কোনও যোগসূত্রই নেই। ওদের (অতুল-নিকিতা) ডিভোর্স মামলা গত ৩ বছর ধরে চলছে। এখন হঠাৎ করে এমন ঘটনা ঘটল। আমার পরিবারও এই ব্যাপারে কিছু জানে না। নিকিতার কাছে সব উত্তর আছে।''
সুশীল এও বলেন, নিকিতা এখন এখানে নেই। তিনি ফিরে আসলেই সবকিছুর জবাব পাওয়া যাবে। যে যে অভিযোগ তিনি করেছেন তার জবাব তাঁর কাছে রয়েছে। এ ব্যাপারে তাঁরা কিছুই না জানেন, না আদালতের বিষয়টি দেখছেন। যদিও ৭০ বছর বয়সি সুশীলের আশা, আদালতে প্রমাণ হবে কে ঠিক, কে ভুল।
গত সোমবার বেঙ্গালুরুর একটি আবাসন থেকে অতুলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। অতুল সুভাষ উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। বেঙ্গালুরুতে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আত্মহত্যা করার আগে যে ২৪ পাতার নোট লিখে গেছেন তাতে দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ৯টি ভুয়ো মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পাশাপাশি ছেলের সঙ্গে দীর্ঘ বছর ধরে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছিল না। এমনকী ৪ বছরের ছেলেকে হাতিয়ার করে তাঁর থেকে টাকাও নিচ্ছিলেন স্ত্রী!
সুইসাইড নোটে অতুল অভিযোগ করে গেছেন, আলাদা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে পরপর ভুয়ো মামলা করতে থাকেন নিকিতা। তাঁর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনও জড়িত ছিল। ২০১৯ সালে অতুলের শ্বশুর প্রয়াত হন। সেই ঘটনায় অতুলের বিরুদ্ধেই খুনের মামলা দায়ের করেছিলেন নিকিতা!
অতুলের পরিবার জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছিল। স্ত্রী নিকিতা খুন সহ একাধিক ভুয়ো মামলা দায়ের করেছিলেন অতুলের বিরুদ্ধে। তার জন্য তাঁকে কয়েক মাসে অন্তত ৪০ বার বেঙ্গালুরু থেকে জৌনপুর যাতায়াত করতে হয়েছিল।