
অতুল এবং তাঁর পরিবার
শেষ আপডেট: 24 December 2024 18:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলে আত্মঘাতী হয়েছেন বেঙ্গালুরুর ইঞ্জিনিয়ার অতুল সুভাষ। ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর স্ত্রী, শাশুড়ি এবং শ্যালক। তবে অতুলের ৪ বছরের ছেলে কোথায় আছে সে ব্যাপারে কেউই জানেন না! নাতিকে নিজেদের কাছে চেয়ে এবার পুলিশেরও দ্বারস্থ হয়েছে অতুলের পরিবার।
অতুল সুভাষের মা ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন নাতির কাস্টডি চেয়ে। এবার অতুলের বাবা বিহারের সমস্তিপুরে ভাইনি থানায় মামলা দায়ের করেছেন নাতিকে খুঁজে পেতে চেয়ে এবং তাঁর কাস্টডি পেতে। অতুলের পরিবার আগেই দাবি করেছিল, ৪ বছরের নাতির মধ্যে অতুলের স্ত্রী নিকিতাদের পরিবার তাঁদের ছেলেকেই দেখতে পায়। তাই তাঁরা তাঁর জীবনও নষ্ট করে দিতে পারে।
ভাইনি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় মূল মামলা দায়ের হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর জেলার থানায়। তাঁদের কাছে যে অভিযোগ জমা পড়েছে তা সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তারাই এই মামলার তদন্ত করবে।
মৃত ইঞ্জিনিয়ারের বাবার বক্তব্য, একবার ভিডিও কল ছাড়া তাঁরা আর কখনও নিজের নাতিকে দেখেননি। এখন তাঁর সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত তাঁরা। প্রৌঢ় হুঁশিয়ারি দিয়ে এও বলেছেন, ''আমাদের নাতিকে যদি ফেরত না দেওয়া হয় তাহলে আমরা সবাই একসঙ্গে আত্মহত্যা করব।'' তাঁর সন্দেহ, অতুলের ছেলেকে কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাঁর ক্ষতি করা হতে পারে।
অতুল সুভাষ মৃত্যুর আগে ২৪ পাতার চিঠি এবং ৮১ মিনিটের ভিডিও করে গেছেন। তাতে বিস্তারিতভাবে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে কীভাবে ৪ বছরের ছেলের নাম করে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করতেন স্ত্রী নিকিতা। মাসে মাসে লক্ষ-কোটি চাওয়া হত তাঁর থেকে। পাশাপাশি খুন সহ একাধিক ভুয়ো মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও করেছিলেন সুভাষ। দীর্ঘ দিন ধরে চলা সেই মানসিক অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতেই তিনি আত্মহত্যা করেন।
পুলিশি জেরায় নিকিতা দাবি করেছিলেন, তাঁর ছেলে কাকা সুশীল সিঙ্ঘানিয়ার দায়িত্ব রয়েছে এবং বর্তমানে ফরিদাবাদের এক বোর্ডিং স্কুলে পড়ে। কিন্তু সুশীল এই কথা অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি নিজেই জানেন না নিকিতার ছেলে কোথায়! এই ইস্যুতে ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং কর্ণাটক সরকারকে নোটিস দিয়েছে বাচ্চাটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত সম্ভব জানানোর জন্য। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৭ জানুয়ারি।