
অভিযুক্ত শিক্ষিকা
শেষ আপডেট: 1 April 2025 19:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুতে এক ছাত্রীর অভিভাবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে, পরে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়ের অভিযোগে এক শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বেঙ্গালুরুর সেন্ট্রাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ (CCB) ২৫ বছর বয়সি ওই শিক্ষিকা শ্রীদেবী রুদাগির সঙ্গে তাঁর দুই সহযোগী—৩৮ বছরের গণেশ কালে ও ২৮ বছরের সাগরকেও গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, তাঁরা তিনজন মিলে এক পড়ুয়ার বাবার কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর আরও ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল।
কীভাবে গড়ে উঠেছিল সম্পর্ক?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেঙ্গালুরুর পশ্চিমাঞ্চলে স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে থাকেন ব্যবসায়ী সতীশ (পরিবর্তিত নাম)। ২০২৩ সালে তিনি তাঁর ছোট মেয়েকে (৫ বছর) এক স্কুলে ভর্তি করান। সেসময়েই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় শ্রীদেবীর। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে। আলাদা একটি সিম কার্ড ও ফোন ব্যবহার করে তাঁরা নিয়মিত মেসেজ ও ভিডিও কল করতে শুরু করেন।
ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় এবং এরপরই শিক্ষিকা সতীশের কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা চান। ৪ লক্ষ টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকে গেলে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরও ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। প্রথমে রাজি না হলেও, কিছুদিন পর শ্রীদেবী তাঁর বাড়িতে যান এবং ৫০ হাজার টাকা ধার চেয়ে নেন।
সতীশের ব্যবসায়িক পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকায় তিনি পরিবার নিয়ে গুজরাতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তাঁর মেয়ের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (TC) প্রয়োজন হয়। এবার চরম বিপদের মুখে পড়েন তিনি। চলতি মার্চের গোড়ার দিকে সতীশ মেয়ের স্কুলে যান, শিক্ষিকা শ্রীদেবীর অফিসে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে সেসময় ছিলেন গণেশ কালে ও সাগর। সতীশকে ঘিরে ধরে তাঁরা ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন। তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেন।
সতীশ প্রথমে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ১.৯ লক্ষ টাকা ট্রান্সফারও করেন। কিন্তু এর পরও ব্ল্যাকমেইল চলতে থাকে বলে অভিযোগ।
১৭ মার্চ শ্রীদেবী তাঁকে ফোন করে আবার টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন। তিনি জানান, ৫ লক্ষ টাকা এক প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য, ১ লক্ষ করে সাগর ও কালের জন্য, এবং বাকি ৮ লক্ষ টাকা তাঁর (শ্রীদেবীর) জন্য প্রয়োজন। এই পর্যায়ে সতীশ আর সহ্য করতে না পেরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ তদন্ত করে দেখে, প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে এই মামলার কোনও সম্পর্ক নেই। এরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে শ্রীদেবী, সাগর ও কালেকে গ্রেফতার করে এবং তাঁদের ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।