Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ইউরোপের আদালতে ‘গোপনীয়তা’ কবচ পেলেন নীরব মোদী, জটিল হচ্ছে পলাতক ব্যবসায়ীর প্রত্যর্পণ-লড়াইইরানের সঙ্গে সংঘাত এবার শেষের পথে? ইঙ্গিত ভ্যান্সের কথায়, দ্বিতীয় বৈঠকের আগে বড় দাবি ট্রাম্পেরওIPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?

‘ভারত সর্বাগ্রে’ বার্তা দিতে হাসিনা ফের দিল্লিতে,‘বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠতম’ বোঝাতে তৈরি টিম-মোদী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার দু-দিনের সফরে ভারতে আসছেন।

‘ভারত সর্বাগ্রে’ বার্তা দিতে হাসিনা ফের দিল্লিতে,‘বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠতম’ বোঝাতে তৈরি টিম-মোদী

ভারত - বাংলাদেশ

শেষ আপডেট: 20 June 2024 14:14

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার দু-দিনের সফরে ভারতে আসছেন। গত ৯ জুন প্রধানমন্ত্রী পদে নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার আসছেন পূর্ব নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক সফরে। 

হাসিনা শুক্রবার বিকালে নয়া দিল্লিতে পৌঁছানোর পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। শনিবার সকালে দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে শুরু হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে দু-দেশের শীর্ষস্তরের বৈঠক। তার আগে রাষ্ট্রপতি ভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সেখান থেকে রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন।

বেলার দিকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সম্মানে দুপুরে রাষ্ট্রীয় মহাভোজের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার বিকালে তাঁর ঢাকা ফিরে যাওয়ার কথা।

সরকারি সূত্রের খবর, এই সফরে দুই দেশের মধ্যে কম করে দশটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এছাড়া চারটি চুক্তি নবীকরণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে আলোচনায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কথা হবে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলি  নিয়ে। একান্তেও কথা হবে দুই রাষ্ট্র প্রধানের। তিস্তার পাশাপাশি এবারের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে গঙ্গা জলচুক্তি। ২০২৬-এ যেটির মেয়াদ শেষ হবে। সেই চুক্তির নবীকরণ ঢাকার অগ্রাধিকারের তালিকায় আছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফর দু-দেশেই ভিন্ন মাত্রা পাচ্ছে আরও একটি কারণে। নয়া দিল্লি থেকে ফেরার ক’দিন পরই হাসিনার চিন সফরে যাওয়ার কথা। বেজিংয়ের কর্তারা নানাভাবে চেষ্টা চালিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেন আগে চিন সফরে যান। এ বছর জানুয়ারিতে হাসিনা টানা চারবার, সব মিলিয়ে পঞ্চমবারের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তার আগে থেকেই ঢাকার চিনা দূতাবাস হাসিনার বেজিং সফর নিয়ে সক্রিয় ছিল। 

বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশে চিনের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসিনা শেষ পর্যন্ত কোন দেশে আগে যান তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল। তিনি ভারতেই প্রথম আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা, ‘ভারত সর্বাগ্রে’ বার্তা দিতেই এই সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের লাগাতার আক্রমণের মুখে ভারতের পাশে থাকা এবং গত দেড়-দুই দশকে দু-দেশের সম্পর্কের উন্নতির ধারাবাহিকতাকে বিবেচনায় রেখে বেজিংয়ের আগে নয়া দিল্লিকে বেছে নিয়েছেন পড়শি দেশের প্রধানমন্ত্রী। আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতের পাশাপাশি জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অষ্ট্রেলিয়া, ব্রিটেনও এই এলাকায়  চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব খর্ব করতে আগ্রহী। 

অন্যদিকে, বাংলাদেশ যে প্রতিবেশীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতম, ঢাকাকে ফের সেই বার্তা দিতে হাসিনার এই সফরকে ব্যবহার করতে প্রস্তুত মোদী সরকারও। গত বছর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির সম্মেলনে সদস্য দেশের বাইরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আলাদা করে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। উপ-মহাদেশে একমাত্র হাসিনাকেই এই সম্মান দেয় মোদী সরকার। জি-২০ সংক্রান্ত বছরভর অনুষ্ঠিত যাবতীয় আলোচনাতেও ভারতের অতিথি হিসাবে বাংলাদেশ অংশ নিয়েছে।

চলতি সফরে নতুন চুক্তির বহর থেকেই স্পষ্ট, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ভারত কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। যদিও হাসিনার ভারত সফরে আলোচনায় তিস্তা জলচুক্তির বিষয়টি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। তবে এবারের সফরেও তিস্তা নিয়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা কম। তবে এই ব্যাপারে দু-দেশের সম্পর্কে নয়া রুপোলি রেখা দেখা গিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের তৈরি তিস্তা মহা প্রকল্পে ভারত অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করায়। ভারতে লোকসভার ভোট চলাকালেই বিদেশ সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা ঢাকা সফরে গিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাছান মামুদকে আশ্বাস দিয়ে আসেন নয়া দিল্লি ওই প্রকল্পে পাশে থাকতে আগ্রহী। 

তিস্তা মহা প্রকল্পে একটি জলাধার নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। তাতে বাংলাদেশে বর্ষার সময় তিস্তা অববাহিকায় বৃষ্টির জল ধরে রাখা হবে। ওই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তিস্তার জল বণ্টন নিয়ে দুই দেশের জল নিয়ে টানাপোড়েনের অবসান ঘটতে পারে। ওই প্রকল্পে অর্থ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে মুখিয়ে আছে চিন। 

নয়া দিল্লির আশঙ্কা, বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তের ওই প্রকল্পে চিনের অংশগ্রহণ ভারতের নিরাপত্তার পক্ষে বিপদের কারণ হতে পারে। নয়া দিল্লির উদ্বেগকে মর্যাদা দিয়ে ঢাকা ওই প্রকল্প নিয়ে এখনও কোনও পদক্ষেপ করেনি। হাসিনার এবারের সফরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে কথা হতে পারে।


```